জোর কদমে জোড়া সফর

রফিক রাফি ও সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

মাত্র ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত নিবিড় কূটনৈতিক সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

2026-06-23T00:14:10+00:00
2026-06-23T00:25:35+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
জাতীয়
জোর কদমে জোড়া সফর
রফিক রাফি ও সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ এএম  আপডেট: ২৩.০৬.২০২৬ ১২:২৫ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন৷ দু’দিনের এ সফরে তার সঙ্গে আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান । ছবি : সংগৃহীত
মাত্র ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত নিবিড় কূটনৈতিক সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশটিতে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতার আওতায় আনার বিষয়ে।

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বানের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।

দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি বলেন, তার (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছিল। একই সঙ্গে শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

তিনি বলেন, আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আরও একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।

তিনি বলেন, আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়া স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিকব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

বৈঠক শেষে এবং সংবাদ সম্মেলনের আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন।

মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। 

তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরেক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ১৮ ঘণ্টার এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ৯টি বিষয়ে ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিমানবন্দর থেকে তাদের মোটর শোভাযাত্রায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতার আওতায় আনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই নেতা একমত পোষণ করেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। আজ সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৬ জুন তার বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ এবং দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করতে একটি ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিনিময়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব দলিল বিনিময় করেন।

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ : সোমবার দুপুরে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মধ্যাহ্নভোজের পর আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশনা করেন এবং শিক্ষার্থীরা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে ভবনের প্রবেশপথে দুই দেশের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী। পরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানান।

মালয়েশিয়ার শীর্ষ করপোরেট জায়ান্টের সঙ্গে বৈঠক : ১৮ ঘণ্টার এই ঝটিকা সফরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্রিয় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারোদুয়া এবং এমএমসি পোর্ট। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানব পাচার রোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র যা বললেন : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন। অল্প সময়ের এ সফরে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বহুমাত্রিক ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ : মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মলিকা তাকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে দুদিনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখানে তার রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  মালয়েশিয়া 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: