২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান প্রত্যাশিতভাবে শুরু করতে পারেনি পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বড় ধাক্কা খেয়েছে রবার্তো মার্টিনেজের দল। ম্যাচের শুরুতেই জোয়াও নেভেস গোল করে এগিয়ে দিলেও সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ইউরোপীয় জায়ান্টরা। ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফিরে আসে আফ্রিকান দলটি আর সেই ফলেই প্রথম ম্যাচ থেকেই চাপে পড়ে যায় পর্তুগাল। বিশেষ করে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। পুরো ৯০ মিনিট খেলেও তিনটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে না পারায় তাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবার অংশ নেওয়া উজবেকিস্তানও নিজেদের অভিষেক ম্যাচে সুখকর ফল পায়নি। শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের পরাজয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে তারা। যদিও ম্যাচে আব্বোসবেক ফয়জুল্লায়েভের করা গোলটি ছিল উজবেকিস্তানের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রথম গোল। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে তারা আক্রমণাত্মক খেলায় খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বক্সে কার্যত কোনো বল স্পর্শই করতে পারেনি, যা তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট করে।
ফিফা র্যাঙ্কিং ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে দুদলের মধ্যে ব্যবধানও বেশ বড়। পর্তুগাল দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর একটি হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে উজবেকিস্তান এখনও উদীয়মান দল হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে। স্কোয়াডের গভীরতা, ইউরোপীয় শীর্ষ লিগে খেলা তারকার সংখ্যা এবং বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সব ক্ষেত্রেই পর্তুগাল অনেক এগিয়ে। এটি হবে দুদলের ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াই, যা ম্যাচটি আরও কৌতূহলোদ্দীপক করে তুলেছে।
পর্তুগালের জন্য এই ম্যাচটি শুধুই একটি গ্রুপপর্বের খেলা নয় বরং নিজেদের সুনাম পুনরুদ্ধারের সুযোগ। প্রথম ম্যাচের ড্র এবং রোনালদো ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনা দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই তাদের। অন্যদিকে উজবেকিস্তান জানে যে আরেকটি হার তাদের জন্য টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পথ আরও সহজ করে দেবে। তাই তারা সর্বোচ্চ লড়াই দিয়েই মাঠে নামবে।
সব মিলিয়ে পর্তুগাল যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নামছে, সেখানে উজবেকিস্তান নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নামছে। অভিজ্ঞতা, তারকা শক্তি এবং সামগ্রিক ভারসাম্যে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা এবং চাপের ম্যাচে যেকোনো অঘটনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এই ম্যাচটি শুধু পয়েন্টের লড়াই নয় বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দুদলের জন্যই।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জনের পর আবার মাঠে নামছে ডিআর কঙ্গো। মঙ্গলবার গ্রুপের শীর্ষে থাকা কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা এস্তাদিও গুয়াদালাহারায়। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ইয়োয়ানে উইসার গোলের সুবাদে ১-১ ড্র করে লড়াকু সূচনা করে আফ্রিকার এই দলটি। অন্যদিকে কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ওই ম্যাচে শুরুতে প্রতিপক্ষ চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত লুইস দিয়াজের ৬৫তম মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে জামিন্টন ক্যাম্পাজের গোল কলম্বিয়াকে নিশ্চিত জয় এনে দেয়।
ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী কলম্বিয়া ১৩তমে থাকা শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দল, যারা নিয়মিত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। বিপরীতে ডিআর কঙ্গোর অবস্থান ৪৬-এ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকান ফুটবলে উন্নতি দেখিয়েছে এবং বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগ ছিল কার্যকর ও ধারাবাহিক। লুইস দিয়াজ ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী, যিনি গতি ও ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার ভাঙেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। শেষ দিকে আরেকটি গোল তাদের জয় নিশ্চিত করে। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথমে গোল খাওয়ার পরও ম্যাচে ফিরে আসে এবং দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ধরে রেখে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়।
ডিআর কঙ্গো কোচ সেবাস্তিয়েন দেসাব্রে সাধারণত পাঁচ ডিফেন্ডারের ফর্মেশন ব্যবহার করলেও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা রক্ষণ জমাট রাখার পাশাপাশি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। চ্যান্সেল এমবেম্বার নেতৃত্বে তাদের রক্ষণভাগ অত্যন্ত সংগঠিত, যা বড় দলের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কলম্বিয়া কোচ নেস্টর লরেঞ্জো ৪-৩-৩ থেকে সরে এসে ৪-২-৩-১ ফর্মেশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে জেমস রদ্রিগেজ নাম্বার ১০ পজিশনে খেলবেন এবং সামনে থাকবেন লুইস সুয়ারেজ। তবে মূল ভরসা থাকবেন লুইস দিয়াজ, যিনি ম্যাচের গতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন।
ডিআর কঙ্গোর আক্রমণে ইয়োয়ানে উইসা ও সেড্রিক বাকাম্বু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে তারা যেকোনো রক্ষণভাগ চাপে ফেলতে সক্ষম। কলম্বিয়ার তুলনায় ডিআর কঙ্গোর শক্তি মূলত শৃঙ্খলা, লড়াকু মনোভাব ও ডিফেন্সিভ স্থিতিশীলতা।
সব মিলিয়ে ম্যাচটি কাগজে-কলমে কলম্বিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকলেও ডিআর কঙ্গোর কঠিন রক্ষণ ও প্রতি আক্রমণ এটিকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। একটি ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে, যেখানে ড্র বা অল্প ব্যবধানে যেকোনো দিকেই ফল যেতে পারে।
সময়ের আলো / আরবিএন