বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত অবনতি ঘটছে বায়ুর মানের। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতিও দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মাঝেমধ্যে বায়ুর মানে সাময়িক উন্নতির আভাস মিললেও সামগ্রিক চিত্রে দূষণের উচ্চমাত্রা বজায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ এর সবশেষ সূচকে দেখা যায়, ১১০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম। এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাস বর্তমানে ‘সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক উৎস সক্রিয় রয়েছে। যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিভিন্ন এলাকায় চলমান নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং শিল্পকারখানার নির্গমন মিলেই রাজধানীর বায়ুমানকে নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে। তাদের মতে, সাময়িকভাবে সূচকে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি মিলবে না।
এদিকে, একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে থাকা ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ১৯৬। এ ছাড়া, ১৫৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, ১৫৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, ১৫২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা শহর এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ১৩৭।
আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সময়ের আলো/জোই