রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ এবং ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিংয়ে ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সুপারিশ পেশ করবে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি উচ্চপর্যায়ের দলও দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের পাইলিংটি ভেঙে যায়। এর ফলে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যেই বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে মূল দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
গত বছর এই বাঁধের প্রায় ১০০ মিটারের বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সে সময় স্থায়ী কোনো টেকসই উদ্যোগ না নিয়ে বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অস্থায়ীভাবে এই বাঁশের পাইলিং (স্পার) দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার ৬ মাস না যেতেই পানির প্রথম ধাক্কাতেই ১৪ লাখ টাকার প্রকল্প নদীগর্ভে চলে যায়।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী বলেন, শুরুর দিকে ভাঙন দেখা দিলে মাত্র দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। দীর্ঘদিন কোনো সঠিক বরাদ্দ না আসায় আজ পরিস্থিতি এত জটিল হয়েছে। গত বছর থেকেই বরাদ্দের কথা শুনছি, কিন্তু বাস্তবে তা আসেনি। বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শে এই বাঁশের পাইলিং করা হলেও তা টিকল না। সরকারের ১৪ লাখ টাকাই প্রথম ধাক্কায় পানিতে ভেসে গেল।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তাদের সুপারিশ ও ডিজাইন অনুযায়ীই এই ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ভাঙন রোধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/জোই