কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক বিতর্কিত বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়করা দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপারসন পদ থেকে অপসারণ করেছেন বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় সংগঠনে বড় রদবদলের ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহী শিবির।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দলের নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে সর্বসম্মতভাবে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। বৈঠক শেষে বিরোধী দলনেতা রীতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, ‘দলকে পুনর্গঠনের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে করা হয়েছে।’
তারা আরও জানান, দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাওয়েদ খান ও রীতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে যৌথভাবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আরও ঘোষণা করা হয়, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং রথীন ঘোষকে দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান।
বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা সব সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে নিয়েছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনকে এ বিষয়ে জানানো হবে। রীতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘কালীঘাট থেকে যেসব ঘোষণা আসছে, সেগুলো আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক নয়। আমাদের কাছে এটিই প্রকৃত তৃণমূল।’
এদিকে, দলের মূল নেতৃত্বের অনুগত বিধায়ক কুনাল ঘোষ বিদ্রোহীদের এই উদ্যোগকে ‘পুরোপুরি হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ নাটক এবং জনসাধারণ তা গ্রহণ করবে না।’
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বিভাজন আরও গভীর হয়। বর্তমানে বিদ্রোহী শিবির দাবি করছে, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন তাদের সমর্থনে রয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে আছেন ১৪ জন বিধায়ক এবং একজন কারাবন্দি।
লোকসভাতেও বিভাজনের প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন আলাদা একটি গোষ্ঠী গঠন করে পরবর্তীতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে বিদ্রোহী পক্ষের দাবি।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৮ সালে। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে দলটি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে এবং তখন থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে অবস্থান করছে।
সূত্র : দ্য হিন্দু
সময়ের আলো/ইউএমএইচ