প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় ফাঁকা সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চ

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে অবস্থান করায় জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি

2026-06-24T05:26:32+00:00
2026-06-24T05:26:32+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
১৯ আসনের মধ্যে ১৩টিই ফাঁকা
প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় ফাঁকা সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চ
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ এএম 
সংসদ ভবন। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে অবস্থান করায় জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারি দলের সামনের সারির অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। 

এ পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রী-এমপিদের সংসদমুখী হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি সংসদের প্রথম দুই অধিবেশনে মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বিদেশ সফরে যাওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। গত তিন দিনে মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে। যে কারণে সংসদ অধিবেশনের কোরাম পূর্ণ করাই কষ্টকর হচ্ছে।

মঙ্গলবার বেলা ৩টায় অধিবেশনের শুরুতে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ ) সামনের সারির ১৯টি আসনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র চারজন সদস্য। তারা হলেন- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী। কিছু সময় পর সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ অধিবেশনে যোগ দেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির অধিকাংশ আসনই ফাঁকা দেখা যায়। 

মন্ত্রীদের মধ্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সংসদে উপস্থিত ছিলেন। অন্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের অধিকাংশই সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রথম সারিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন সদস্য।

এর আগের দিন গত সোমবার বিকালে সরকারি দলের প্রথম সারিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ মাত্র চার সদস্যকে দেখা যায়। প্রথম তিন সারির ৬৪টি আসনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২১ জন সদস্য। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অধিবেশনে যোগ দিলেও মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত অধিকাংশ আসন দীর্ঘ সময় খালি ছিল। 

এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকেন না। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না, যা সংসদীয় জবাবদিহিতার চর্চাকে দুর্বল করে। স্পিকারও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন। কিন্তু এর মাত্র একদিন পর মঙ্গলবারও অর্থমন্ত্রীসহ অধিকাংশ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। 

বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টিতে আনেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। 


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংসদকক্ষে উপস্থিত থাকেন না। সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তা হলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।

অধিবেশন কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনো কখনো কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি, কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। পাশাপাশি সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও চেষ্টা করা উচিত।

সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা এবং আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। এমনকি কয়েকবার ‘ফ্লোর ক্রসিং’য়ের ঘটনাও নজরে এসেছে। সংসদের ভেতরে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা পরিহার করুন। যতটা সম্ভব নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নিন এবং আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিত অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন। অর্থমন্ত্রীও নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে যদি কথা বলা হয়, শেষ কথা অর্থমন্ত্রীই বলবেন। স্বাস্থ্য খাতের কথা বলবেন, বিদ্যুৎ খাতের কথাও বলবেন, পুলিশের কথাও বলবেন, আইনের কথাও বলবেন, সব কথাই অর্থমন্ত্রী বলবেন। 

তবে স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য মন্ত্রী ও এমপিদের সংসদীয় কার্যক্রমে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করেন তিনি।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  বিদেশ  সংসদ  ট্রেজারি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: