ভূমিকম্প আমাদের জীবনের এক অনিশ্চিত ও হঠাৎ ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনা। অনেক সময় কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই চারপাশ কেঁপে ওঠে, আর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। তবে এর বেশিরভাগই এতটাই মৃদু যে আমরা তা অনুভবও করতে পারি না।
ভূমিকম্প সাধারণত তীব্রতার ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়— প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। প্রচণ্ড ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, মাঝারি ভূমিকম্পে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে, আর মৃদু ভূমিকম্প প্রায়ই আমাদের অগোচরে ঘটে যায়। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি যেমন ভীতিকর, তেমনি এটি সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই জরুরি।
ভূমিকম্পের কারণ বিজ্ঞান অনুযায়ী নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়— পৃথিবীর ভূত্বকের প্লেটগুলোর নড়াচড়া, চাপ সঞ্চয় ও হঠাৎ মুক্তি ইত্যাদির ফলে ভূমিকম্প ঘটে। তবে ইসলামি বর্ণনায় কিছু হাদিসে ভূমিকম্পকে কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার একটি লক্ষণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেন, যখন সমাজে নানা ধরনের অনৈতিকতা ও অব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়বে— যেমন অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জন, আমানতের খেয়ানত, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়া জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পাওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মসজিদে বিশৃঙ্খলা, অযোগ্য মানুষের নেতৃত্ব, খারাপ কাজের প্রসার ও তা নিয়ে গর্ব করা, বাদ্যযন্ত্র ও মদের ব্যাপক প্রচলন, তখন এমন কঠিন সময় আসবে যেখানে প্রবল বাতাস ও ভূমিকম্পের মতো বড় বিপর্যয় দেখা দেবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৪৭)
আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, এই উম্মতকে ভূমিকম্প, আকৃতি বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। সাহাবি জানতে চাইলো, কখন এমন হবে? নবীজি (সা.) বলেন, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২২১২)
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না বেশি বেশি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। (বুখারি, কিতাবুল ফিতান)
ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেছেন, ইতিহাসে পূর্ব, পশ্চিম ও বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ভূমিকম্প ঘটেছে। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন দেশে নিয়মিত ভূমিকম্পের খবর পাই। এগুলোকে কেউ কেউ কিয়ামতের আলামতের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ বলেন, এগুলো হতে পারে সেই বড় আলামতের পূর্ববর্তী প্রাথমিক পর্যায়ের ঘটনা।
সব মিলিয়ে, ইসলামি বর্ণনায় ভূমিকম্পকে একদিকে প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে কিছু হাদিসে এটিকে কিয়ামতের পূর্ব লক্ষণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে