চলতি মাসেই দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

জাতীয়

চলতি জুন মাসে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে

2026-06-25T19:58:30+00:00
2026-06-25T19:58:46+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
চলতি মাসেই দেশে চারবার ভূমিকম্প, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৫.০৬.২০২৬ ৭:৫৮ পিএম
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সংগৃহীত ছবি
চলতি জুন মাসে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে একাধিকবার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চার দিনে অন্তত ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এ ধরনের কম্পন ভবিষ্যতে বড় কোনো ভূমিকম্পের ইঙ্গিত কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। হঠাৎ হওয়া এ কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে রাতের এ কম্পন নগরবাসীর মধ্যে শঙ্কা তৈরি করে।

এর আগে ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্যে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। ভারতের শিলচর এলাকায় উৎপত্তি হওয়া এ ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

চলতি মাসের প্রথম উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পটি হয় ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ভুটানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলসহ ঢাকা ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসেন। 

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এসব ভূমিকম্পের কোনোটিতেই বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তারপরও অল্প সময়ের মধ্যে বারবার ভূমিকম্প হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কেন ভূমিকম্প ঝুঁকিতে বাংলাদেশ?

চলতি বছরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের খ্যাতনামা ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য প্রধান দুটি ভূমিকম্প উৎস হলো উত্তরের ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত সাবডাকশন জোন। এই অঞ্চলে ভারতীয় প্লেট বার্মা প্লেটের নিচে প্রবেশ করছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংযোগস্থলে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো বিপুল শক্তি জমা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই ফল্ট অঞ্চল বর্তমানে ‘লকড’ অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে শক্তি বের হয়ে যাচ্ছে না; বরং দীর্ঘদিন ধরে তা জমা হচ্ছে। এ অবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, বাংলাদেশ নিজে প্রধান ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল না হলেও আশপাশের সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। ফলে বড় ধরনের কোনো ভাঙন দেখা দিলে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।


ভূমিকম্পের সময় কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি বা বহুতল ভবন থেকে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করা ঝুঁকিপূর্ণ। বরং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

ড্রপ: কম্পন শুরু হলে দ্রুত হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন।

কাভার: শক্ত টেবিল, খাট, সোফা বা বিমের নিচে আশ্রয় নিন এবং হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন।

হোল্ড: কম্পন থেমে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়স্থল শক্তভাবে ধরে থাকুন।

সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় বাজেটের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণকে তাৎক্ষণিকভাবে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, তরুণদের সম্পৃক্ত করে প্রাকৃতিক দুর্যোগভিত্তিক ডিজিটাল গেম তৈরি করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে মানুষ সহজে ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া এবং সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের প্রস্তুতি ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে বড় ধরনের দুর্যোগের সময়ও মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ভূমিকম্প 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: