ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা হঠাৎ করেই পুরো চেনা পরিবেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? কেন কেঁপে ওঠে আমাদের এই শান্ত পৃথিবী? এর পেছনে রয়েছে ভূপৃষ্ঠের গভীরে থাকা বিশাল কিছু পাথুরে খণ্ডের খেলা।
বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের পৃথিবীর উপরিভাগ বা ভূত্বক কিন্তু অখণ্ড কোনো বস্তু নয়। এটি বেশ কিছু বিশাল আকৃতির টুকরো বা সেকশনে বিভক্ত, যেগুলোকে বলা হয় ‘টেকটনিক প্লেট’। সহজ কথায়, এগুলোকে পৃথিবীর এক একটি পাজল বা ধাঁধার টুকরো হিসেবে কল্পনা করা যায়। এই প্লেটগুলো স্থির থাকে না, অত্যন্ত ধীরগতিতে অনবরত নড়াচড়া করে। এদের নড়াচড়ার গতি এতটাই ধীর যে, বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার— যা মানুষের নখ বৃদ্ধির গতির সমান।
উদাহরণ হিসেবে উত্তর ভেনিজুয়েলার কথা বলা যায়। এই অঞ্চলটি মূলত ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। যখন এই বিশাল প্লেটগুলো একে অপরের সাপেক্ষে বা বিপরীত দিকে নড়াচড়া করতে থাকে, তখন এদের সীমানার কিছু অংশ পরস্পরের সাথে আটকে বা ‘স্টাক’ হয়ে যায়। কিন্তু ভেতরের শক্তির কারণে প্লেটগুলোর মূল অংশ ঠিকই এগোতে চায়। ফলে সেই আটকে থাকা অংশে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র চাপ বা শক্তির সঞ্চার হতে থাকে।
বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা এই চাপ যখন একপর্যায়ে সহ্যসীমার বাইরে চলে যায়, তখন আটকে থাকা অংশটি আর তা ধরে রাখতে পারে না। হঠাৎ করেই প্লেটগুলো তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে পিছলে যায় বা নিজের জায়গায় ফেরার চেষ্টা করে। আর এই আকস্মিক বিচ্যুতির ফলেই অবমুক্ত হয় দীর্ঘ সময় ধরে জমা হয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ শক্তি। এই শক্তির তরঙ্গ যখন ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়, তখনই আমরা তাকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে অনুভব করি।
সূত্র: আলজাজিরা
সময়ের আলো/কহু