ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার বহুল আলোচিত রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান বা প্রণামীর টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে মন্দিরের ৬ কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।
পুলিশের দায়ের করা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টে (এফআইআর) মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনই মন্দিরের ক্যাশ কাউন্টিং বা টাকা গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এই আটজনকে সরাসরি টাকা আত্মসাৎ করতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে- অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, রামশঙ্কর মিশ্র, রামশঙ্কর যাদব, মনীশ যাদব, সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব এবং করুণেশ পাণ্ডে। এদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা গেলেও বাকি দুজন এখনো পলাতক। পলাতকদের মধ্যে অন্যতম হলেন রামশঙ্কর যাদব, যিনি রাম মন্দির ট্রাস্টের অত্যন্ত প্রভাবশালী জেনারেল সেক্রেটারি (সাধারণ সম্পাদক) চম্পত রায়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। পুলিশ বর্তমানে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।
রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকার দান বা অনুদান চুরির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনে উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। দলটির সুপ্রিমো ও উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছিলেন, ভক্তদের বিশ্বাসের দান করা কোটি কোটি টাকা মন্দির থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ট্রাস্ট এবং রাজ্য সরকারের রহস্যজনক নীরবতার সমালোচনা করে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে রাম মন্দির ট্রাস্ট বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘গুজব’ এবং ‘মন্দিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিতর্কের মুখে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তারা রাজ্য সরকারকে তদন্তের অনুরোধ জানায়।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। এই তদন্ত দলে ছিলেন লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল কিরণ এস এবং অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীল রতন। এই কমিটির তদন্তেই সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে চুরির অকাট্য প্রমাণ মেলে।
মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে ভক্তদের দানের টাকা চুরির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পর সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আজ অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রমাণিত ও স্বীকৃত হলো যে রাম মন্দিরে সত্যিই চুরি হয়েছে। আমরা যে অভিযোগ তুলেছিলাম, তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি রাম ভক্তের নৈতিক জয়।
সময়ের আলো/কহু