যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরস্পরের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা সেই চুক্তি মেনে চলেছি। সমঝোতা স্মারক কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি থাকলে, তারা কথা বলতে পারে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, উপসাগরে একটি ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তারা বলেছে, ওয়াশিংটন বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, ‘আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আলোচনার নীতি কিংবা যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। এই হামলা যুদ্ধবিরতির বেপরোয়া লঙ্ঘন।’
যুদ্ধ অবসানে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
সময়ের আলো/মহু