ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় নিহত মায়ের পেট ফেটে অলৌকিকভাবে জন্ম নেওয়া শিশু ফাতেমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামে ফাতেমার নিহত বাবা, মা ও বোনের কবর জিয়ারত করেন।
জিয়ারত শেষে তিনি ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, ঘর মেরামতের জন্য নতুন টিন ও তাদের পারিবারিক মুদি দোকানের জন্য মালামাল তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উপহার পেয়ে ফাতেমার পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উপহার হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকি, উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমি মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদল সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুল প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ২০২২ সাল থেকেই বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই পরিবারটিকে প্রতি মাসে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী ও বাজার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন তার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতি মাসে এই বাজার ফাতেমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতেন।
এই বিষয়ে নাইমুল করিম লুইন বলেন, বিগত ২০২২ সাল থেকে জননেতা তারেক রহমান প্রবাসে থাকা অবস্থাতেও এই পরিবারটির কাছে নিয়মিত মাসিক বাজার পাঠাতেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পরও ফাতেমার পরিবারকে ভুলে যাননি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন। এছাড়া ফাতেমার বাকি ভাই-বোনদের পড়াশোনার খোঁজখবরও রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।
ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনি নিহত হওয়ার পর থেকে তারেক রহমান সাহেব নিয়মিত আমাদের খোঁজ রাখছেন এবং মাসিক বাজার দিচ্ছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি আমাদের মনে রেখেছেন।
ফাতেমার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাতেমা এখন ঢাকার আজিমপুর ‘ছোটমণি নিবাসে’ ভালো আছে। সেখানে সরকারিভাবে তার দেখভাল করা হচ্ছে। আমরা প্রতি মাসে একবার গিয়ে তাকে দেখে আসি।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকি জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে ফাতেমার দাদার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফাতেমাদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটি পাকাকরণ করে সেটির নামকরণ শিশু ফাতেমার নামে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মাঠ পর্যায়ের সব মানবিক কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। তারই অংশ হিসেবে আজ আমরা ফাতেমার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, টিন ও তাদের দোকানের পুঁজি হিসেবে মালামাল হস্তান্তর করেছি। ফাতেমার অন্য দুই ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ ও তাদের যাতায়াতের রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি এলাকার দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম ও ছয় বছরের শিশুকন্যা সানজিদাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। সেই সময় অলৌকিকভাবে মৃত রত্না বেগমের পেট ফেটে জন্ম নেয় শিশু ফাতেমা। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন। দুর্ঘটনার সময় নিহত দম্পতির বড় মেয়ে জান্নাত (১০) ও ছেলে এবাদত (৭) বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।
সময়ের আলো/জোই