খাগড়াছড়ির রামগড়ে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৩) ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মামা বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক (৪০)। তিনি পেশায় একজন চা দোকানি এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর এক সহপাঠীর বাবা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে নানাবাড়ির রান্নাঘরে একাকী কাজ করছিল ওই ছাত্রী। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওমর ফারুক রান্নাঘরে ঢুকে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। ছাত্রীটি তা প্রত্যাখ্যান করলে ওমর ফারুক তাকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওমর ফারুক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর এক স্বজন জানান, ঘটনার সময় ছাত্রীর নানি বাড়ির পাশে একটি জলাশয়ে মাছ ধরছিলেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা রামগড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে ওমর ফারুক এই অপকর্মের চেষ্টা চালান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছেন। দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় আসতে কিছুটা দেরি করেছে।
দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ওসি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ঘটনার পর ওমর ফারুকের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। দিনভর দেনদরবার চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর গভীর রাতে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় আসে। ততক্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/জোই