হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতা। ঘেরাও কর্মসূচির খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী জনতার ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, মিল-কলকারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও নষ্ট হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, নবীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও স্থানীয় গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
বক্তারা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ঘেরাও কর্মসূচির পর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আসাদুজ্জামান অনুজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, নবীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ কর্মসূচি সফল করতে শুক্রবার রাতে নবীগঞ্জ শহরে মাইকিং করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
সময়ের আলো/আতা