গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে রুহুল আমিন (৩৮) নামে এক অটোরিকশাচালককে তাঁর সন্তানের সামনে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর আগে বাবাকে বাঁচাতে ছোট্ট মেয়ের আকুতি ও কান্না থামাতে পারেনি নির্যাতন— এমন হৃদয়বিদারক অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কুমারভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির পাশের ঝোপঝাড় থেকে রুহুল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক, চাচা শ্বশুর ও তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রিমিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত রুহুল আমিন একই ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের মো. আতাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিনকে বাড়িতে মারধর করা হয়। তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রিমি ঘটনাটি দেখলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি। এ সময় তাঁর আরেক শিশুকন্যা আফরিন বাবার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তাকে বাঁচাতে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে। কিন্তু এরপরও মারধর থামেনি বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের ছোটবোন ফাতেমা খাতুনের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, একপর্যায়ে রুহুল আমিন মারা গেলে মরদেহ বাড়ির অদূরের ঝোপঝাড়ে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড়ভাই লিটনের দাবি, ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের জানিয়েছিল, রুহুল আমিন রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তাঁদের ধারণা, ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি এনজিও থেকে রুহুল আমিন এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তাঁর চাচা শ্বশুরের ছেলে। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার টাকা কিস্তি বকেয়া ছিল। এ নিয়ে এনজিওকর্মীরা জামিনদারের বাড়িতে গিয়ে চাপ দিতেন। বিষয়টি নিয়ে রুহুল আমিনের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রায়ই বিরোধ হতো।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের একজন শাহজাহানের স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর স্বামী ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। রুহুল আমিনকে কারা মারধর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। শিশুকন্যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
সময়ের আলো/আতা