হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভা পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সামাজিক মাধ্যম সরগরম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে হবিগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ

2026-09-30T15:34:28+00:00
2026-09-30T15:34:28+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভা পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সামাজিক মাধ্যম সরগরম
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম 
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভা। ছবি : সময়ের আলো
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে হবিগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) হবিগঞ্জ কার্যালয়। দুই দফতরের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। 

নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে রাতভর যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে এটা বিদ্যুৎ বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা, আর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে বিল পরিশোধ না করায় লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর এ নিয়ে জেলাজুড়েও চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে পৌরসভায় পানির বিল ও পৌরকর মেলা চলাকালে হঠাৎ পৌর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিপিডিবি। এতে মেলায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। 

সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় পৌর ভবনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পিডিবির কর্মীদের ঘিরে ধরেন। পরে তাদের পৌরসভার হলরুমে নিয়ে যাওয়া হলে আলোচনা শেষে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়।

পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। পৌর কার্যালয়ের কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই বলেও দাবি করেছে তারা। পৌরসভার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬০২ টাকা এবং আগস্ট মাসের চলতি বিল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৩ টাকা। সব মিলিয়ে বিল দাঁড়ায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ টাকা। এই বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।


অন্যদিকে বিপিডিবি হবিগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানান, পৌরসভার সুইপার কলোনি, পাবলিক টয়লেট, পৌরসভার মসজিদ, পুরাতন পৌরসভা অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে দীর্ঘদিনের প্রায় ৬২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যেই পৌরসভার প্রধান কার্যালয়ের সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। 

তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় পৌরসভার পানির পাম্পগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি বলে জানান তিনি। এসব পাম্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ মানুষ পানি সরবরাহের সুবিধা পান।

এদিকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বুধবার দুপুরে সময়ের আলোকে জানান, কোনো ধরনের আগাম বার্তা না দিয়েই বিপিডিবি পৌর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এতে পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পিডিবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তথ্য দিয়েছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

দুই দফতরের বক্তব্যে বকেয়া বিলের পরিমাণ নিয়ে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেখানে পৌরসভা কার্যালয়ের বিল ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং তা পরিশোধের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর বলে দাবি করছে, সেখানে বিপিডিবি বিভিন্ন স্থাপনা মিলিয়ে প্রায় ৬২ লাখ টাকা বকেয়া থাকার কথা বলছে। ফলে প্রকৃত বকেয়া কত এবং কোন কোন সংযোগের বিপরীতে কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   হবিগঞ্জ  বিদ্যুৎ বিভাগ  পৌরসভা  পরস্পরবিরোধী অবস্থান  সামাজিক মাধ্যম  সরগরম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: