কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের হারিকেন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাদেশ

আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবনধারায় এসেছে বিপুল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের ধারায় নতুন অনেক কিছু যেমন যুক্ত হয়েছে মানুষের জীবনে, তেমনি

2026-08-15T19:03:14+00:00
2026-08-15T19:03:14+00:00
 
  সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের হারিকেন
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম 
গ্রামবাংলার হারিকেন। সংগৃহীত ছবি
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবনধারায় এসেছে বিপুল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের ধারায় নতুন অনেক কিছু যেমন যুক্ত হয়েছে মানুষের জীবনে, তেমনি অনেক কিছু হারিয়েও গেছে। একটা সময় পর্যন্ত রাতের অন্ধকার দূর করতে মানুষের অন্যতম অবলম্বন হারিকেনের স্থানও সেই হারিয়ে যাওয়ার দলে। যে হারিকেন একসময় গ্রামীণ জনপদে ছিল আলোর একমাত্র উৎস, সেই হারিকেনকেই যে আজ ‘হারিকেন জ্বালিয়ে খোঁজা’র পরিণতি বরণ করতে হয়েছে।

অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করা, রাতের বাজারে দোকানদারি করা, এমনকি রাতে চলাফেরা করার জন্যও হারিকেন ছিল গ্রামের মানুষের একমাত্র অবলম্বন। সন্ধ্যা হলেই হারিকেন নিয়ে পড়তে বসত শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ সংযোগের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজন ফুরিয়েছে সেই হারিকেনের। এ যুগের শিশু-কিশোরদের কাছে হারিকেন কেবলই হারিয়ে যাওয়া অতীতের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। 

হারিকেন জ্বালানোর স্মৃতি বর্ণনা করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার গ্রামের সত্তার মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় সন্ধ্যার আগে আগে হারিকেনের কাচের চিমনি খুলে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতাম। তারপর কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালাতাম। হারিকেনের কেরোসিন তেল রাখার জন্য গ্রামের সব বাড়িতেই কাচের বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা হতো।

রাজা মাস্টার বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলো জ্বালিয়ে ছাত্রদের লেখাপড়া করিয়েছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনো কখনো আলো নিভে যেত। আবার দিয়াশলাই বা চুলা থেকে পাটকাঠি দিয়ে আগুন নিয়ে হারিকেন জ্বালাতে হতো।’


নয়াবাজারের রিকশাচালক ইনুচ মিয়া বলেন, ‘আগেও রিকশা চালাতাম। তখন রাস্তাঘাটে এখনকার মতো ল্যাম্পপোস্ট ছিল না। তাই রাতে রিকশার নিচে লেমটন (হারিকেন) লাগিয়ে রাখতাম পথ দেখার জন্য। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কেরোসিন ভরলে সারারাত চলে যেত। এখন তো ব্যাটারি রিকশা চালাই। রিকশার সামনে লাইট থাকে, তার আলোতে পথ চলি। লেমটন (হারিকেন) এখন হারিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের স্থানীয় দোকানদার জয়লাল মিয়া বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগে সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালানোর জন্য কেরোসিন তেল নিতে মানুষের সিরিয়াল লেগে যেত। এখন হারিকেন তো বটেই, বাজার ঘুরে কেরোসিন তেল খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। কোনো কোনো বাড়িতে জঞ্জালের ভিড়ে হয়তো মরিচা পড়া জীর্ণ চেহারার হারিকেনের দেখা মিলতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হারিকেন হারিয়েই গেছে। নতুন প্রজন্মের কেউই হয়তো হারিকেন চোখেই দেখেনি। একসময় হয়তো জাদুঘরে শুধু দেখা মিলবে অথবা বইয়ের পাতায় উল্লেখ থাকবে নাম।

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   কালের বিবর্তন  বিলুপ্তি  ঐতিহ্য  হারিকেন 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: