কুমিল্লার একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা করতে এসে ভুলবশত প্রায় দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে রেখে চলে যায় পাকিস্তানি একটি পরিবার। পরে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় শিশুটি নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে এসেছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ‘হোটেল জাইতুন’-এ এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পাকিস্তানি নাগরিক মো. সালমান ও তার পরিবারের প্রায় ১৫ সদস্য দুটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে তারা হোটেল জাইতুনে নাস্তার জন্য বিরতি নেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে অসাবধানতাবশত পরিবারের ছোট্ট সদস্য নাফিসাকে হোটেলেই রেখে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করেন।
হোটেলটির স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, পরিবারটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তারা দেখতে পান, দেড় থেকে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রেস্তোরাঁয় একা রয়েছে। শিশুটি কথা বলতে না পারায় তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন।
এদিকে, পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটির অনুপস্থিতি টের পায়। পরে তারা বুঝতে পারেন, শিশুটি সম্ভবত কুমিল্লার হোটেলেই থেকে গেছে। শিশুটির বাবা মো. সালমান হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, শিশুটি নিরাপদে রয়েছে।
সালমান জানান, দুটি গাড়িতে পরিবারের সদস্যরা বিভক্ত হয়ে ভ্রমণ করছিলেন। শিশুটির বাবা-মা ভেবেছিলেন নাফিসা দাদা-দাদুর গাড়িতে উঠেছে, আর দাদা-দাদু ধারণা করেছিলেন সে বাবা-মায়ের সঙ্গেই আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণেই শিশুটি হোটেলে থেকে যায়।
পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীমা শারমিনের উপস্থিতিতে শিশু নাফিসাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে শিশুটির পরিবার স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও