মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তরে আর কোনো প্রশাসনিক জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, পরিবারের সম্মতি পেলেই যেকোনো দিন কবর স্থানান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।
শনিবার (২৭ জুন) হাতিরঝিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কবর স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যে ছাড়পত্র প্রয়োজন ছিল, সেটি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এখন লেখকের পরিবার চাইলে যে কোনো সময় কবরটি বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব।
এর আগে আহমদ ছফার পরিবার জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে কবর স্থানান্তরের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বুধবার (২৪ জুন) একটি সংবাদমাধ্যমে ‘আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরে সিটি কর্পোরেশন রাজি, জেলা প্রশাসন নীরব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম কবর স্থানান্তরের অনুমতি দিয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠান।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আহমদ ছফার ভাতিজা সাহিত্যিক নূরুল আনোয়ার কবর স্থানান্তরের আবেদন করে ডিএনসিসিতে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনস্বী লেখক আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু তাকে এখনো প্রাপ্য মূল্যায়ন দেওয়া হয়নি। তাই যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে তার কবর সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
পরে ১৩ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪তম সভায় আহমদ ছফার মরদেহ মিরপুর কবরস্থানের সাধারণ লেন থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সময়ের আলো/আরবিএন