রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেত্রী জাহিন বিশ্বাস এষাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করাছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এর প্রেক্ষিতে আম্মারকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
শনিবার (২৭ জুন) ভিপি জাহিদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জিএস আম্মারের এ ধরনের মর্যাদাহানিকর ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ লেখেন, একজন নির্বাচিত জিএসের প্রতি এমন মর্যাদাহানিকর ভাষা ব্যবহার করা যেমন মোটেও উচিত হয়নি, তেমনিভাবে ক্যাম্পাসের একজন ছাত্রীকে (তিনি যে দলেরই হোন না কেন) ইঙ্গিত করে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের ব্যাপারেও জিএসকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হোক বা রাজনৈতিক নেতা হোক— আমরা যদি একে অপরের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে ব্যক্তিগত ঝগড়ায় লিপ্ত হই, তবে বুঝে নিবেন এতে আমাদের ব্যক্তিগত রাজনীতি দাঁড় করানো বা সস্তা প্রচার (ফোকাস গেইন) ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ নেই। এই ব্যক্তিগত লাভের আশায় সামগ্রিক ক্যাম্পাস রাজনীতির পরিবেশকে কলুষিত করা আমাদের মোটেও উচিত নয়।
ভিপি জাহিদ আরও বলেন, সবাই জানে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমাদের একে অপরের প্রতি সহনশীল হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ইস্যুকেন্দ্রিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি ও আক্রমণ এড়িয়ে চলা সবার জন্যই মঙ্গলজনক।
উল্লেখ্য, এর আগে ছাত্রদল নেত্রী জাহিন বিশ্বাস এষার একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন। আম্মার এষাকে উদ্দেশ্য করে তার আইডিতে লিখেছিলেন, কখনোই কুত্তা দেখলে ভয় পাবেন না। বেশি ঝামেলা করলে জুতা খুলে মারবেন। কুত্তা কাছেই আসতে দেবেন না। আমার জীবন থেকে একটা শিক্ষা আপনাদের দিলাম। ও হ্যাঁ আরেকটা কথা! সিরিয়াসলি মেয়ে কুত্তা বেশি ছ্যাঁচড়া হয়।
জিএস আম্মারের এমন আপত্তিকর মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে রাকসু ভিপি এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও সতর্কবার্তা দিলেন।
সময়ের আলো/জোই