যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে এখন পর্যন্ত এ হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও তাসনিম নিউজ জানায়, কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান বাহরাইন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
এর আগে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে