খাদ্যগুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট খাদ্যগুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত কৃষকদের

2026-06-28T09:23:57+00:00
2026-06-28T09:23:57+00:00
 
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সারাদেশ
খাদ্যগুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট খাদ্যগুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষি কার্ড ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাজিরহাট খাদ্যগুদামে ১৫০ টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগ ৪২২ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে। তবে অভিযোগ, তালিকাভুক্ত অনেক কৃষক ধান দিতে না পারলেও তাদের নাম ও কৃষি কার্ড ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ সিন্ডিকেট পরিচালনার পেছনে খাদ্যগুদামের এক কর্মচারী মো. হাছানের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার যেখানে প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা, সেখানে সিন্ডিকেট মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে নিম্নমানের ও আর্দ্রতাযুক্ত ধান কিনছে। এতে প্রতি মণে প্রায় ৫৪০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান নেওয়ার বিনিময়ে প্রতি টনে ৩ হাজার টাকা করে কমিশন নেওয়া হচ্ছে। ৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহে এভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। এ অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলেও দাবি তাদের।

শুধু ধান সংগ্রহ নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ডিওর চাল কম দামে কিনে পরে বেশি দামে ব্যবসায়ী ও খোলা বাজারের দোকানদারদের কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।


এ বিষয়ে হাজিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশাদ জাহান বলেন, ‘কিছু প্রকৃত কৃষক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। নতুন করে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাদের কাছ থেকেও ধান সংগ্রহ করা হবে।’ তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, ‘প্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে সরকারি ধান সংগ্রহের সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   খাদ্যগুদাম  সরকার  ধান সংগ্রহ  সিন্ডিকেট  অভিযোগ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: