ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিজয়’ হিসেবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং স্বয়ং লেবানন সরকার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্ব বজায় রাখার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে।
পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই চুক্তির সমস্ত শর্ত ও দায়ভার এককভাবে লেবানন সরকারের ওপর চাপানো হয়েছে, যা ইসরায়েলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লেবাননের মাটিতে অবস্থান করার আইনি সুযোগ করে দিচ্ছে।
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুক্তির ১৪টি ধারায় যে সমস্ত কঠিন শর্ত ও লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তার সবকটিই লেবানন সরকারকে পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যতক্ষণ না হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ করছে এবং লেবানন সরকার সমস্ত শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের ‘সিকিউরিটি জোন’ বা বাফার জোনে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করবে। এই চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল তার নিজের সুবিধাজনক সময়ে সেনা সরাবে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নয়।
এমনকি এই বাফার জোনে বাস্তুচ্যুত লেবাননি নাগরিকদেরও আপাতত ফিরতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের দুটি অঞ্চলকে ‘পাইলট জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘সুপারিশ’ অনুযায়ী লেবানন সেনাবাহিনী মোতায়েন হতে পারবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসলে একটি ফাঁদ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাদের বাহিনীকে লেবাননে ‘দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের’ জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোট সরকারের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি, কারণ ‘লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার’ না করার যে ‘রেড লাইন’ তারা টেনেছিল, তা অক্ষুণ্ন রইল।
নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইরানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন। এতদিন তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে তাদের নিজস্ব আলোচনার শর্ত হিসেবে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন ট্র্যাকটিকে ইরান-আমেরিকা আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহু কড়া ভাষায় বলেছেন, আমরা ইরানকে বুঝিয়ে দিয়েছি— লেবানন নিয়ে নাক গলানো তাদের কাজ নয়। সেখানে ইরান বা হিজবুল্লাহর কোনো ভূমিকা থাকবে না।
তবে লেবাননের একটি বিশাল অংশ এবং হিজবুল্লাহ এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্বের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখছে। লেবানন সরকারের এই ‘একতরফা আত্মসমর্পণ’ বৈরুতকে একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/কহু