মধুপল্লী সম্প্রসারণসহ পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র গড়ার দাবি

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৯ জুন। ১৮৭৩ সালের এই দিনে কলকাতার আলিপুর

2026-06-29T03:59:59+00:00
2026-06-29T03:59:59+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ
মধুপল্লী সম্প্রসারণসহ পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র গড়ার দাবি
আজ মহাকবির ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৩:৫৯ এএম 
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত মধুপল্লী। সংগৃহীত ছবি
বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৯ জুন। ১৮৭৩ সালের এই দিনে কলকাতার আলিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তার জন্ম হয়েছিল কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদ পাড়ের সাগরদাঁড়ি গ্রামে। 

জমিদার বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ও মা জাহ্নবী দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করলেও ১৮৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে তখন থেকে তার নামের সঙ্গে মাইকেল যুক্ত হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে সাগরদাঁড়িতে পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি মধুপল্লী সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমিতে জাদুঘর, বিশ্রামাগার ও লাইব্রেরির আধুনিকায়নও প্রয়োজন। স্থানীয় কবি-সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলছেন, যশোরের অন্যতম পুরাকীর্তি ও পর্যটনস্থল মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত দত্ত বাড়ি, জাদুঘর ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও সংস্কার করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সাগরদাঁড়িতে বেশি আগমন ঘটানো সম্ভব।

সরেজমিন সাগরদাঁড়ির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে মধুপল্লীসহ অন্যান্য অবকাঠামোর দৃষ্টিনন্দন না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যশোর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীতে রয়েছে কবির জন্মভিটা, মধুসূদন জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং পর্যটনকেন্দ্র। 

অপূর্ব নির্মাণশৈলীর তৈরি কবির বসতবাড়িটি বেশ আগেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী এখানে এলেও বিনোদনের সুব্যবস্থা ও বিশ্রামগার না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন।

এ ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্তের বাড়িতে সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ করা হবে। এখানে একটি প্রকল্প গ্রহণের কাজ অব্যাহত আছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এখানকার সবকিছুরই উন্নয়নসহ আধুনিকায়ন করা হবে। তখন দর্শনার্থীসহ পর্যটকদের কাছে এই স্থান আরও আকষর্ণীয় হয়ে উঠবে।

সাগরদাঁড়ির আলোকচিত্র শিল্পী তাহেরুজ্জামান তাছু বলেন, পর্যটকদের আকর্ষণ করতে হলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা, মধুপল্লী সম্প্রসারণসহ অন্যান্য অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করতে হবে। তবেই দর্শনার্থীসহ দেশি-বিদেশি পর্যকটরা বেশি আকৃষ্ট হবেন।

কেশবপুর উপজেলা নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে একটি সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেই এখানকার সবকিছুর উন্নয়ন হয়ে যেত। পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি মধুপল্লী সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

মধুসূদন একাডেমির পরিচালক, গবেষক ও কবি খসরু পারভেজ বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মধুপল্লীর বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মধুপল্লী ও মধুপল্লীর বাইরের অবস্থানকে ঘিরে একটি মনোরম পর্যটনকেন্দ্র এখানে গড়ে উঠতে পারে। পর্যটকদের থাকার জন্য জেলা পরিষদ থেকে ডাকবাংলো নির্মাণ করা হয়েছে।


পর্যটন করপোরেশনের ছোট একটি মোটেলও রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। সেই তুলনায় সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল।

সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানান, ক্যাম্পাসটি উত্তর দিকে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কবির পারিবারিক পুকুরঘাট বাঁধানো এবং কবির আঁতুরঘরকে নান্দনিক অবকাঠামোয় রূপ দেওয়া সম্ভব হলে এটি আরও দর্শনার্থীবান্ধব হবে। এখানকার বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নরে ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে আবেদনও পাঠানো হয়েছে। 

সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদ তীরে কথা হয় খুলনা থেকে আসা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি পরিবার নিয়ে এসেছেন। মধুপল্লী জাদুঘর ঘুরে ভালো লাগলেও বিশ্রামাগার না পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। 

সাতক্ষীরা থেকে আসা আব্দুর রহিম বলেন, সাগরদাঁড়িতে ভালো বিশ্রামাগার না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত শৌচাগারও নেই। এমন অভিযোগ প্রায়ই দর্শনার্থীদের।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 





  বিষয়:   মধুপল্লী  সম্প্রসারণ  পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র  দাবি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: