কলকাতায় সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ইসকন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হলো- বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তার প্রকাশ্য মন্তব্য করা।
রোববার (২৮ জুন) এ সিদ্ধান্তের পর তাকে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনসম্মুখে কোনো প্ল্যাটফর্মে সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন রাধারমণ দাস। একইসঙ্গে তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
রাধারমণ দাস জানান, গত কয়েক বছরে তাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ইসকনের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে রাধারমণ দাস দাবি করেন, তার অপসারণের পেছনে ৬টি নির্দিষ্ট পদক্ষেপকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ মে রিপাবলিক টিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার ভাষ্যমতে, ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়েরের ঘটনাও রয়েছে তালিকায়। একইসঙ্গে প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৭৬ সালের নিউইয়র্ক রথযাত্রার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করার বিষয়টিও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসকন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মূলত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রধান কারণ।
এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে নিরামিষভিত্তিক মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি প্রকল্পের পক্ষে ইসকনের সবচেয়ে সক্রিয় মুখ হিসেবে উঠে আসেন রাধারমণ দাস। কলকাতায় ইসকনের প্রস্তুত করা খাবার চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে খাবারের তালিকায় ডিম না রাখার কারণে।
এ বিষয়ে রাধারমণ দাস ইসকনের স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয় তুলে ধরেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইসকন বিশ্বজুড়ে বাঙালি থালি পরিবেশন করে। তাই শুধু ডিম বা মাংস থাকলেই একটি বাঙালি থালি পূর্ণ হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। মেনুতে ভাত, ডাল, খিচুড়ি ও সবজি থাকবে। আর সয়া চাঙ্কস ও রাজমার মতো খাবারে উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে। তাই সেগুলোও থাকবে।’
তবে ইসকনের ব্যবস্থাপনা সূত্রের দাবি, ডিম ও সয়াবিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তুলনা করে রাধারমণ দাস যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা অনুমোদিত ছিল না। সংস্থাটির অবস্থান অনুযায়ী, সাত্ত্বিক খাদ্য নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সময়ের আলো/মহু