গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও থামছে না ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা। উপত্যকার মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে নতুন করে চালানো পৃথক দুটি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় উপত্যকার তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত পুলিশ সদস্যরা তাদের জন্য 'হুমকি' হয়ে উঠেছিলেন, যার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার উম্ম আল-ফাহম স্কুলের কাছে বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। বাস্তুচ্যুত শত শত মানুষের ওই আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা প্রমাণ করে যে গাজায় অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রাখতে চায় ইসরাইল। একই সাথে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে তারা।
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
সময়ের আলো/জেডি