পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ মেটাতে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে সম্মত

2026-06-30T04:40:59+00:00
2026-06-30T04:40:59+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ মেটাতে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সময় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর ফলে হুমকির মুখে পড়া শান্তি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত টিকে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রসঙ্গের কথা উল্লেখ করে মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রতিটি বিষয় নিয়ে কারিগরি আলোচনা যথারীতি চলবে। আপাতত উভয়পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এবং এখন থেকে জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।

ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ সর্বপ্রথম নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে দুই পক্ষের সম্মত হওয়ার খবর জানায়। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মঙ্গলবার কাতারে পুনরায় এই আলোচনা শুরু হবে। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। দুই পক্ষই সমঝোতা স্মারকের শর্তে থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করে।

মার্কিন হামলার জবাবে শনিবার রাতে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারক মেনে না চললে ইরানের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়া হবে।

এদিকে ইসরাইলও রোববার জানায়, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে দলটির ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। গত শুক্রবার লেবাননের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই শনি ও রোববার এসব হামলা চালানো হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, লেবাননে চলমান যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।


অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এক বার্তায় বলেন, এমন এক সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর নমনীয় হওয়া সম্ভব হবে না। আমরা যে সামরিক মিশনটি সফলভাবে শুরু করেছি, তা পূর্ণ করতে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আর যদি তেমনটা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে!

গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘হটলাইন’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছিল ইরান। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে এই হটলাইন চালুর কথা ছিল। তবে গত শনিবার পর্যন্ত এই হটলাইন চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ইরান পুনরায় দাবি করতে শুরু করে যে এই পথ দিয়ে যাতায়াতে জাহাজগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মূলত সুইজারল্যান্ডে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনার স্থান পরিবর্তন করে দোহায় নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুও এখন হরমুজ প্রণালির দিকে ঘুরে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত দলের প্রধান নিক স্টুয়ার্ট এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ফেরত আসছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। 

একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এই অর্জনকে ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পেজেশকিয়ান।

সোমবার কোম শহর সফরে গিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেজেশকিয়ান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার এখন ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলমান। সুইজারল্যান্ড বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ অবমুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের অটল মনোভাবের প্রশংসা করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থীদেরও হত্যা করা হয়েছে। তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সব সামর্থ্য প্রয়োগ করেছিল। তারা ভেবেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে তাদের সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ইরানের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি শহিদ শীর্ষ নেতার আমল থেকেই চলে আসা নীতি এবং এখনও তা বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম কেবল দেশের প্রয়োজন এবং ঘোষিত নীতির কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরাইল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনও এটি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে। পেজেশকিয়ান জানান, তার সরকার এরই মধ্যে দেশ পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু করেছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   হরমুজ প্রণালি  যুক্তরাষ্ট্র  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: