আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল ও আকাশপথে একযোগে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে অন্তত ২৯ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে সোমবার (২৯ জুন) দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের এই বিমান হামলায় সেখানে অন্তত ৩৮ জন সাধারণ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় এই বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আফগান ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা চালাল পাকিস্তান, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশের তিনটি নির্দিষ্ট আস্তানায় বিমান হামলায় ২৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করার দাবিও করেন তিনি। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাজাউর জেলায় স্থল অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপির আরও ৪ যোদ্ধা নিহত হয়।
অন্যদিকে, এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বিমান হামলায় মূলত নারী ও শিশুসহ ৩৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাক্তিয়া প্রদেশের একটি আবাসিক বাড়িতে চালানো বোমা হামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রথম হামলার পর বাসিন্দারা যখন আহতদের উদ্ধার করতে ছুটে যান, তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালায়। এতেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের ওপর চালানো বোমা ও বন্দুক হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—পাকিস্তানকে অশান্ত করতে আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আফগান তালেবান এই অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করেছে।
সময়ের আলো/জেডি