হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ওয়াশিংটন।
সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকাল দোহায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, টানা দুদিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে উভয় পক্ষ শান্ত অবস্থানে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন গভীর রাতে হরমুজ প্রণালীতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এরপর প্রায় দুদিন ধরে সেন্টকম ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একে অপরকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালায়। সেন্টকমের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় আইআরজিসি।
তবে অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওই হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পৃথক বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের সেনাবাহিনীও জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করে।
এদিকে, ২৭ জুন কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ২৫ জুন ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য মার্কিন বাহিনীকে মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘নরক নেমে আসবে’।
সূত্র: আল জাজিরা