‘পুরো কানাডাই আমার সঙ্গে ছিল’

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা একটি দেশের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেয়। কানাডার জন্য তেমনই এক স্মরণীয় রাত

2026-06-30T05:01:33+00:00
2026-06-30T05:01:33+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
খেলা
‘পুরো কানাডাই আমার সঙ্গে ছিল’
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৫:০১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা একটি দেশের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেয়। কানাডার জন্য তেমনই এক স্মরণীয় রাত এনে দিলেন স্টিফেন ইউস্টাকিও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তার দুর্দান্ত গোলেই আসে কাঙ্খিত জয়। সেই এক গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়ে কানাডা।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কানাডিয়ান সমর্থকরা। ইউস্টাকিওর ৯২ মিনিটের সেই গোল শুধু একটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, বরং বিশ্বকাপে কানাডার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।

ম্যাচ শেষে ইউস্টাকিও জানান, খেলার শেষ মুহূর্তে কত সময় বাকি ছিল, সেটিও ঠিকমতো বুঝতে পারেননি তিনি, ‘এটা কঠিন একটি স্টেডিয়াম। আমি আসলে ম্যাচের সময় দেখতে পারছিলাম না। একবারও ঘড়ি দেখতে পাইনি। শুধু কুলিং ব্রেকের সময় বোঝার চেষ্টা করছিলাম আর কত সময় বাকি আছে। তবে গোল করার পর বুঝেছিলাম, ম্যাচ শেষ হতে আর বেশি বাকি নেই।’

পুরো ম্যাচেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বলের দখল আর আক্রমণে এগিয়ে থেকেও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিল কানাডা। ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ইউস্টাকিওর শট জড়িয়ে যায় জালে। সেই এক মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য।


এই জয়কে পুরো দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন কানাডার অধিনায়ক, ‘এই জয় পাওয়ার জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। আমরা সত্যিই এই জয়টা সব কানাডিয়ানকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। আমরা বিশ্বাস হারাইনি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এর চেয়ে সুন্দরভাবে জয় আসতে পারত বলে আমি মনে করি না। আমি যখন শট নিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল পুরো কানাডাই আমার সঙ্গে শট নিয়েছে। সবাই যেন নিজেদের শক্তির একটু অংশ আমাকে দিয়েছে, আর বলটা জালে চলে গেছে।’

২০২৩ সালের শেষ দিকের পর জাতীয় দলের হয়ে এটিই ইউস্টাকিওর প্রথম গোল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এটি তার চতুর্থ আন্তর্জাতিক গোল হলেও গুরুত্বের দিক থেকে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড়। কারণ, এই গোলই বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম নকআউট জয় নিশ্চিত করেছে।

তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও আত্মতুষ্ট নন ইউস্টাকিও। তার চোখ এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জে, ‘আমাদের বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। বিশ্বকাপের নকআউটে আত্মবিশ্বাস খুব বড় বিষয়। এখন আমাদের সামনে মরক্কো অথবা নেদারল্যান্ডস। ভালো দিনে আমরা যে কোনো কিছুই করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলটা বিশেষ। আমরা নিজেদের ভাইয়ের মতো মনে করি। যখন আমরা একে অপরের জন্য লড়াই করি, তখন বিশেষ কিছু ঘটতেই পারে। আমি ভীষণ আনন্দিত, কিন্তু আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।’

কানাডার এই জয় প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা আর শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য আসা দল নয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, অদম্য মানসিকতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ইচ্ছাই তাদের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক হয়ে থাকবেন স্টিফেন ইউস্টাকিও, যার এক পায়ের শট কোটি কানাডিয়ানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   কানাডা  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: