মিশন হেক্সা ইজ অন : সেলেসাওয়ের উত্তাল সাম্বায় কুপোকাত সামুরাই ব্লু

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

সবুজ গালিচায় যখন চামড়ার গোলকটি ছুটতে শুরু করে, তখন তো তা কেবল কোনো খেলা থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক

2026-06-30T02:08:22+00:00
2026-06-30T02:08:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
খেলা
মিশন হেক্সা ইজ অন : সেলেসাওয়ের উত্তাল সাম্বায় কুপোকাত সামুরাই ব্লু
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২:০৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সবুজ গালিচায় যখন চামড়ার গোলকটি ছুটতে শুরু করে, তখন তো তা কেবল কোনো খেলা থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক মহাকাব্য, যেখানে ক্ষণে ক্ষণে ট্র্যাজেডি আর রোমাঞ্চ হাত ধরাধরি করে হাঁটে। হিউস্টনের আকাশে তখন সোমবারের রাত। মাঠের বুকে দুই ভিন্ন গোলার্ধের দুই ফুটবল-দর্শনের লড়াই। একদিকে সামুরাইদের নিখুঁত আত্মত্যাগ, অন্যদিকে সেলেসাওদের সাম্বা নৃত্যের ছন্দ।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রুনো গিমারেজরা চেষ্টা করছিলেন ব্রাজিলের সেই চিরচেনা জাদুকরী ধারায় আক্রমণ বুনতে। ছোট ছোট পাসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে তারা বারবার চড়াও হচ্ছিলেন জাপানের সীমানায়। কিন্তু নীল সামুরাইদের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে সেই সুরের মৃত্যু ঘটছিল বারবার। ডন কার্লো আনচেলত্তি ডাগআউটে দাঁড়িয়ে চাল চালছিলেন দাবার বোর্ডের মতো-ম্যাথিউস কুনিয়াকে নাম্বার টেন পজিশনে এনে, লুকাস পাকুয়েতাকে লেফট উইংয়ে পাঠিয়ে তৈরি করছিলেন গোলের নকশা।

কিন্তু ভাগ্যের লিখন কে মুছতে পারে? ম্যাচের ২৯ মিনিটে হিউস্টনের স্তব্ধতা ভেঙে জেগে উঠল এক জাপানি ঝড়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিল এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধিরা। বক্সের ঠিক বাইরে খানিকটা শূন্যতা খুঁজে পেলেন কায়সু সানো। আর তার পরেই ডান পা থেকে বেরোলো এক অগ্নিগোলক। ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বাতাসে ডানা মেললেন বটে, কিন্তু সানোর সেই শটের গতি আর নিয়তির লিখনকে স্পর্শ করার সাধ্য কার ছিল? বল জড়িয়ে গেল জালে। ১-০! গ্যালারিতে তখন নীল সামুরাইদের বুকভরা গর্বের গান।


বিরতির পর গল্প বদলালো। ইনজুরিতে পড়া পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে আনচেলত্তি মাঠে নামালেন তরুণ এন্ড্রিককে। ব্রাজিল যেন তখন এক আহত সিংহ, তার সম্মানের লড়াইয়ে মরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিট থেকেই জাপানের ডিফেন্সকে নাচিয়ে তুলতে শুরু করল হলুদ জার্সিধারীরা। ৫২ মিনিটে গিমারেজের বুলেট গতির হেড জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি যখন ফিরিয়ে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল আজ বোধহয় প্রাচীরের দিন। ৫৪ মিনিটে আবারও কাসেমিরোর হেড রুখে দিলেন সেই সুজুকি।

কিন্তু নিয়তি তার নাটকের স্ক্রিপ্ট অন্যভাবে লিখে রেখেছিল। ঠিক দুই মিনিট পর, ৫৬ মিনিটে আবারও উড়ে এলো বল। এবার আর সুজুকির দুই হাত সেই ভাগ্যকে রুখতে পারল না। কাসেমিরোর দুর্দান্ত হেডে জাল কেঁপে উঠল, আর তার সাথে সমতায় ফিরল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ১-১!

ম্যাচের বয়স যত বাড়ছিল, নাটকীয়তা তত ঘনীভূত হচ্ছিল। ৬৬ মিনিটে কুনিয়াকে তুলে মার্তেনেল্লিকে নামালেন ডন কার্লো। অন্যদিকে জাপান তখন সমতার স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ার আশায় নিজেদের সীমানায় তৈরি করল এক দুর্ভেদ্য 'লো ব্লক'। ব্রাজিলের সমস্ত আক্রমণ সেই দেওয়ালে এসে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। ঘড়ির কাঁটা ৯০ মিনিট পেরিয়ে যখন রেফারি ৬ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের ঘোষণা দিলেন, তখন গ্যালারিতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত উত্তেজনার ফিসফাস।

ঠিক তখনই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের বয়স তখন ৯৫ মিনিট। চারপাশের কোলাহল যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। মিডফিল্ডার গিমারেজের পা থেকে বক্সে আলতো করে ভেসে এলো এক মায়াবী পাস। সেখানে চিতার মতো ওঁত পেতে ছিলেন আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি। বলটি ধরে নিখুঁত দক্ষতায়, চোখের পলকে তিনি যে শটটি নিলেন, তা ডান প্রান্ত দিয়ে জড়িয়ে গেল জাপানের জালে।

শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে জাপানের নীল স্বপ্নগুলো চূর্ণ হয়ে মিশে গেল হিউস্টনের ঘাসে। আর গ্যালারি জুড়ে তখন বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো আছড়ে পড়ল জয়ের হলদে উল্লাস। ২-১ গোলের এই মহাকাব্যিক জয়ে জাপানকে বিদায়ের অশ্রুতে ভাসিয়ে বীরের বেশে শেষ ষোলোর মঞ্চে পা রাখল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   সেলেসাওয়  সাম্বা  সামুরাই ব্লু 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: