বিয়ের মাত্র এক মাসও পার হয়নি। হাতে মেহেদির রং এখনও যেন ফিকে হয়নি। এরই মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার যুবক মজনুর রহমান (২৬)। ছোট ভাইকে ঢাকাগামী বাসে তুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে ফেলে রাখা পাথর ও বালুতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মজনুর রহমান আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের নিজাম উদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট ভাই পলাশ ঢাকায় টাইলস মিস্ত্রির কাজ করেন। সোমবার রাতে তাকে ঢাকাগামী বাসে তুলে দিতে আলমডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আসেন মজনুর। ছোট ভাইকে বাসে তুলে দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য সড়কে ফেলে রাখা পাথরের ওপর মোটরসাইকেল পিছলে গেলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ফাতেমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, সড়কে যথাযথ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/জোই