গাজীপুরের কালিয়াকৈরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিন-রাত মিলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও বাকী সময়টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকে শহরবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এমনি তথ্য পাওয়া যায়।
জানা গেছে, গাজীপুর কড্ডা ও আশুলিয়ার কবীর দুটি গ্রেড থেকে কালিয়াকৈর বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু কালিয়াকৈর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮০ মেগাওয়াট। সেখানে পাচ্ছে ১৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় কালিয়াকৈরে শহর বা গ্রাম গঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে সীমাহীন বিদ্যুৎ লোডশেডিং চলছে। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পোল্ট্রি খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে শহরের বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে বাসাবাড়িতে পানির সংকটে পড়েছে শহরবাসী। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের রোগীরা রয়েছে চরম দুর্ভোগে। কালিয়াকৈর প্রায় তিন শতাধিক শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব শিল্প কারখানা লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে থাকলেও মাস শেষে দ্বিগুণ বিল গুণতে হয়। এনিয়ে গত কয়েকদিন আগে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মৌচাক পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ঘেরাও করে গ্রাহকরা।
উপজেলার লতিফপুর কাচা বাজারে কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ফ্রিজের আইসক্রিমসহ বিভিন্ন মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপদাহে হিট স্ট্রোকে মুরগি মারা যাচ্ছে। দিনরাত দু এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে এছাড়া বিদ্যুৎ নাই বললেই চলে। এরকম চলতে থাকলে লোকসানে পড়বে তারা। ব্যাবসায় ক্ষতি হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো।
জ্বালানি সংকট ও অতিরিক্ত তাপদাহের ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি হচ্ছে। এতে লোডশেডিং কাটিয়ে উঠতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর পল্লীবিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ।
কালিয়াকৈর পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস উপমহা ব্যবস্থাপক(ডিজিএম) মো. শাহরুল ইসলাম জানান, গতকাল থেকে লোডশেডিং কিছু কমেছে। অতিরিক্ত তাপদাহের ফলে বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং হয়। এছাড়া দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ আছে। আরও কয়েকদিনে লোডশেডিং থাকতে পারে।
সময়ের আলো/জোই