মো. জয়নাল আবেদীন, বয়স ৭০ পার হলেও এখনও থামেনি তার জীবন যুদ্ধের চাকা। ভোর হলেই ছুটে যান নিজের ছোট মসলার দোকানে। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে বাবার হাত ধরে যে দোকানের হাল ধরেছিলেন, আজও সেই দোকানই তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জামাল খোনার বাড়ির বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন। এই ছোট মসলার দোকানে ভর করে চলে তার ৮ জনের বিশাল সংসার।
মৃত বাবা জামাল খোনার রেখে যাওয়া এই ছোট ব্যবসাটি নুর হোসনসহ দুই ভাই মিলে এখনও আগলে রেখেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন বাজারে জয়নাল আবেদীন তার দোকান নিয়ে বসেন। রিকশায় করে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ঘুরে ঘুরে হাটের দিনে জিরা, দারুচিনি, আদা, তেজপাতাসহ রান্নার যাবতীয় মসলা বিক্রি করেন তিনি। হাটে আসা সব ধরনের ক্রেতার কাছেই তার এই মসলার বেশ কদর রয়েছে।
দীর্ঘ জীবনের এই পথচলা নিয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার বাবা এই ব্যবসা করতো। বাবার স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে আমরা দুই ভাই এই ব্যবসা করছি। আমি ১০ বছর বয়স থেকে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। জীবনটা এই পথেই শেষ করলাম, কিন্তু কোনোদিন কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নিলো না।
দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পর জয়নাল আবেদীনের সামান্য আয়ে ৮ সদস্যের এত বড় সংসার চালানো যেন রীতিমতো এক যুদ্ধ। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। কিন্তু এই বয়সে এসেও জয়নাল আবেদীন হার মানতে নারাজ। তিনি ঘরে বসে অলস সময় কাটানোতে বিশ্বাসী নন। জীবনের ৫৫টি বছর এই দোকানেই কাটিয়ে দেওয়া জয়নাল যেন আমাদের সমাজের খেটে খাওয়া অদম্য মানুষদেরই একজন প্রতিচ্ছবি, যিনি সামান্য আয়েও সততা ও পরিশ্রমের সাথে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পাননি। এমনকি কপালে জোটেনি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ডও। জীবনের শেষ সময়ে এসেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ তার খোঁজ নেয়নি।
স্থানীয়রা মনে করেন, জয়নাল আবেদীনের মতো এমন অদম্য ও পরিশ্রমী প্রবীণ মানুষের পাশে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত, যেন জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারেন।
সময়ের আলো/আতা