রাজধানীর পরিকল্পিত নতুন শহর পূর্বাচলে ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মূলত পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে ভবিষ্যতে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা চালু করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, পূর্বাচল এলাকায় ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী থানা স্থাপন করা হবে। তবে থানা অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সব কার্যক্রম চালানো হবে। থানার অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
এক সময় কেবল আবাসন প্রকল্প হিসেবে পরিচিত পূর্বাচলে এখন দ্রুত জনবসতি গড়ে উঠছে। তবে মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেখানে অপরাধীদের তৎপরতাও বেড়েছে। বিস্তীর্ণ ফাঁকা প্লট, নির্মাণাধীন ভবন এবং নির্জন সড়কের সুযোগ নিয়ে এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও জমি দখলের মতো অপরাধ বাড়ছে। সীমিত পুলিশি পাহারার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পূর্বাচলের বিভিন্ন নির্জন এলাকা কার্যত অপরাধীদের দখলে চলে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হন।
অনেক ব্যবসায়ী জানান, এলাকায় চোর-ছিনতাইকারীদের উপদ্রব এত বেড়েছে যে ভয়ে রাতে কাস্টমার আসতে চায় না। আবার রাত ১২টায় দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পর মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে।
ডিএমপির কর্মকর্তাদের আশা, এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু হলে পূর্বাচলে পুলিশের টহল অনেক বাড়বে এবং যে-কোনো অপরাধের খবর পেলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর ফলে ছিনতাই, চুরি ও চাঁদাবাজি দমনের পাশাপাশি পরিকল্পিত নতুন শহর হিসেবে পূর্বাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সময়ের আলো/জেডি