নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এএসএম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তিনি নারী কর্মীদের সাথে অসদাচরণের পাশাপাশি ক্লাব শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
চলতি মাসের ১৮ এবং ২২ তারিখে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি বরাবর ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ ও অন্যান্য কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওতাধীন ক্লাব শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা প্রদানে অনিয়ম করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্লাব শিক্ষকদের চরম ভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
ক্লাবের শিক্ষকরা জানান, গত মার্চ মাসে শিবগঞ্জ উপজেলায় ক্লাবের নাস্তা বরাদ্দ ৭২ হাজার টাকা উত্তোলন করলেও তিনি ১৬টি ক্লাবে নাস্তার খরচ বাবদ দিয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অবশিষ্ট ২৭ হাজার ৩২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে তিনি তার কাছেই রেখে দেন। উপরোক্ত টাকার বিষয়ে ক্লাবের শিক্ষকগণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলামকে মৌখিকভাবে অবহিত করলে তিনি সব শুনে জরুরীভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসারকে তলব করে এপ্রিল ও মে মাসের নাস্তার পূর্ণাঙ্গ টাকা নিয়ম-অনুযায়ী শিক্ষকদেরকে টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন।
ইউএনওর নির্দেশ উপেক্ষা করে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের চার সপ্তাহের নাস্তার খরচ বাবদ ক্লাব প্রতি ৪৮০০ টাকার বিপরীতে ৪৪০০ টাকা করে প্রদান করেন । বাকী ৬৪০০ টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। এবং মে মাসের টাকা পরবর্তীতে দেয়া হবে বলে জানান। কিন্তু মে- জুন মাসের মাসের ১৬টি ক্লাবের সদস্য বা শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য বরাদ্দকৃত খরচ বাবদ প্রদান না করে বরং ক্লাব শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করেই চলেছেন এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
জানা গেছে, ১৮ জুন কিশোর কিশোর ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সবাইকে না ডেকে সভাটি করা হয়েছে। যেখানে ক্লাব প্রতি বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৬০০টাকা। মোট বরাদ্দ ছিল ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। সভাতে উপস্থিতি অনেককেই সম্মানী দেননি বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ১২ জুন মোবারকপুর নিরালা গুচ্ছ গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত কিশোর-কিশোরী ক্লাবে পরিদর্শনে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি নাজরিন বেগমের সাথে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন এবং অসদাচরণ করেন। ঘটনায় বিচার চেয়ে দপ্তরি নাজরিন বেগম ২২ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আরও একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের প্রবীণ শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম বলেন, আমি নিয়মমাফিক ক্লাস করার পরও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার আমার একদিনের বেতন কর্তন করেছেন। আমি এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার এএসএম ওহিদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মাজাহারুল ইসলাম বলেন, দুটি অভিযোগই পেয়েছি। এখনো কাজ শুরু করিনি। যেহেতু এটি প্রকল্পের কাজ সেহেতু ভুক্তভোগীদের প্রকল্পের পরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেছি।
সময়ের আলো/আতা