খাগড়াছড়িতে মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন, দাম না পাওয়ায় হতাশ বাগানিরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

সারাদেশ

সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা সড়ক আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ির পাহাড়জুড়ে এখন মৌসুমি ফলের ভরপুর সমারোহ। কাঁঠাল, আম, আনারস, ড্রাগন,

2026-06-30T22:32:36+00:00
2026-06-30T22:33:20+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
খাগড়াছড়িতে মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন, দাম না পাওয়ায় হতাশ বাগানিরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম  আপডেট: ৩০.০৬.২০২৬ ১০:৩৩ পিএম
ছবি : সময়ের আলো
সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা সড়ক আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ির পাহাড়জুড়ে এখন মৌসুমি ফলের ভরপুর সমারোহ। কাঁঠাল, আম, আনারস, ড্রাগন, লটকন, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের বাম্পার উৎপাদনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। 

স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিক সবিনয় চাকমা অভিযোগ, উৎপাদিত ফল বাজারজাত করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন স্থানে টোল ও অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে জেলার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা ফল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি শহরের ফল বিক্রেতা মো. জাফর বলেন, এ বছর জেলায় ফলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে ফলের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। কৃষকরা যে দাম আশা করেছিলেন, তা তুলনামূলক অনেকটা কম বাজারে। 

আরেক ফল বিক্রেতা মংশি মারমা বলেন, বাইরের পাইকাররা কম আসায় স্থানীয় বাজারের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে ফলের দাম কমে গেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, পাহাড়ের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ফলের জেলায় মোট ২০ হাজার ২শ ১২.৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৬৭৮ মেট্রিক টন। তবে কৃষি বিভাগ বলছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দ্বিগুণ ফল এবছরে উৎপাদন হয়েছে খাগড়াছড়িতে। তবে বর্তমানে বেশিভাগ ফল অল্পসময়ে বাজারে আসতে শুরু করায় সরবরাহ বেড়েছে এবং কৃষকরা এতে কিছুটা কম দাম পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।


খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক কালোবরণ চাকমা বলেন, বাগানিরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠাল, আম, আনারস, কলা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল বাজারজাত করতে গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় আঞ্চলিক সংগঠন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদকে টোল দিতে হচ্ছে।  টোলের নামে এই চাঁদা দিতে বাধ্য হন তারা। শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তী জেলা কুমিল্লায় একটি মিনি ট্রাকে ফল পাঠাতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এসব কারণে ফল চাষে দিন দিন পাহাড়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন বাগানিরা। তিনি বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার ফলচাষিরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎপাদিত ফল বাজারজাত করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখছে। তবে এখন পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

পাহাড়ে ফলের উৎপাদন বাড়লেও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ফল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। এতে সম্ভাবনাময় পাহাড়ি ফলখাতের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন, সচেতন নাগরিক সমাজ। 

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   খাগড়াছড়ি  মৌসুমি ফল  বাম্পার ফলন  হতাশ  বাগানি  বাগান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: