প্রবাস জীবনের কঠোর সংগ্রাম শেষে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা ফিরলেন কফিনবন্দি লাশ হয়ে। কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ যখন নিজ এলাকায় পৌঁছায়, তখন পুরো অঞ্চলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টায় কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ীর মহাজিরুল উলূম আকুনী মাদ্রাসা মাঠে একসঙ্গে এই পাঁচ প্রবাসীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি আর হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাঁদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এই পাঁচ প্রবাসীর জানাজার নামাজে ইমামতি করেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতি আবুল হাসান। মর্মান্তিক এই জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন।
নিহতরা হলেন— নিজ গাছবাড়ী গ্রামের আবদুল কাদির (৩০), মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান (২৭) ও জুবায়ের আহমেদ (২৮), আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৮) এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ (৩৫)। গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁরা মারা যান।
নিহত জিবাল আহমেদের ছেলে পারভেজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমরা পাঁচ ভাই-বোন। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন আমার বাবা। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন আমাদের দেখার আর কেউ রইল না।’
এর আগে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে আজ সকাল সোয়া ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সরাসরি সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
বিমানবন্দরেই নিহতদের দাফন ও লাশ পরিবহনের খরচ বাবদ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারগুলো যাতে দ্রুত অন্যান্য সব সরকারি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি