ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে বিস্তৃত এলাকা দখলে নিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিস্তীর্ণ এলাকা দখল

2026-07-01T00:31:49+00:00
2026-07-01T00:32:51+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে বিস্তৃত এলাকা দখলে নিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩১ এএম  আপডেট: ০১.০৭.২০২৬ ১২:৩২ এএম
চীনা সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি, ক্যাম্প ও সড়ক নির্মাণ করেছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের চারণভূমি, কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের বড় একটি অংশও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নাহ আদিবাসীদের সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটির দাবি, চীনা বাহিনীর দখলদারির কারণে গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও পশুচারণ করতে পারছেন না।

সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের এ বিষয়ে আপার সুবনসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমি আমাদের পূর্বপুরুষদের। বহু প্রজন্ম ধরে আমরা সেখানে শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করেছি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে যেসব এলাকায় আমরা অবাধে যেতাম, সেগুলো এখন চীনা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।’

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত অন্তত পাঁচটি এলাকায়—আসফিলার ওয়িং ও পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং এবং টিনডিংতাং—চীনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে স্থায়ী অবকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। স্থানীয়দের কাছে এসব এলাকার কয়েকটি স্থান পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত।

কেরু চাদের জানান, প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই চীনা সেনারা মাঝেমধ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করত। তবে ২০২০ সালে তারা কৌশলগতভাবে স্থায়ীভাবে এসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘তাকসিং এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর তৎপরতার গতি ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে নিজেদের ভূমি হারাচ্ছি।’


এ বিষয়ে স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে তদন্ত ও যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ, বিস্তীর্ণ এলাকা দখল এবং স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের দাবিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে লাদাখ সীমান্তেও চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, লাদাখে ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও চীনের দখলে যায়নি।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   ভারত  ভূখণ্ড  বিস্তৃত এলাকা  দখল  চীন  সেনাবাহিনী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: