বর্তমান সময়ে কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবরে নাম-ঠিকানা লেখা একটি ছোট ফলক লাগানো হয়। যেন সহজে শনাক্ত করা যায়। এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ইসলামে এটি বৈধ কি না।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে কবর চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে নামফলক বা অন্য কোনো সহজ চিহ্ন ব্যবহার করা জায়েজ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর দাফনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কবরের মাথার কাছে একটি পাথর রেখে দেন।
তিনি বলেন, এই পাথরের মাধ্যমে কবরটি চিহ্নিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এর পাশে দাফন করা হবে। এ থেকেই বোঝা যায়, কবর চিনে রাখার জন্য সাধারণ চিহ্ন ব্যবহার করা বৈধ।
তবে কবরের ওপর অতিরিক্ত সাজসজ্জা করা বা অহংকার প্রকাশের মতো কিছু করা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই নাম ও প্রয়োজনীয় পরিচয়ের বাইরে কোরআনের আয়াত, কবিতা, প্রশংসামূলক বাক্য বা অপ্রয়োজনীয় লেখা খোদাই করা উচিত নয়।
একইভাবে কবর পাকা করা, কবরের ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা বা এমন কাজ করা, যা ইসলামের নির্দেশনার পরিপন্থী, তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধু কবর শনাক্ত করার প্রয়োজনেই নাম-ঠিকানাসহ একটি সাধারণ ফলক লাগানো বৈধ। তবে সেটি যেন সীমিত, সংযত এবং শরিয়তের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। মুসলমানের উচিত কবরকে জাঁকজমকপূর্ণ না করে সরল রাখা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা। কারণ মৃত্যুর পর মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উপকার হলো জীবিতদের আন্তরিক দোয়া ও নেক আমল।
সূত্র : আবু দাউদ, হাদিস : ৩২০৬, তিরমিজি, হাদিস : ১০৫২, খুলাসাতুল ফাতওয়া : ১/২২৬
সময়ের আলো/এসএকে