নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পুরুষের জন্য মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে অসুস্থতা, প্রবল বৃষ্টি, সফর, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা কিংবা অন্য কোনো শরয়ি ওজরের কারণে মসজিদের জামাত ছুটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে জামাতে নামাজ আদায় করা যায়।
স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জামাতে নামাজ পড়লে স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকে। ইসলামী শরিয়ত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। স্বামী ইমাম হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে জামাত করলে স্ত্রী স্বামীর পাশে দাঁড়াবেন না; বরং তাঁর পেছনে দাঁড়াবেন। স্বামী সামনে ইমাম হিসেবে থাকবেন এবং স্ত্রী তাঁর ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন। নারী-পুরুষের জামাতে এটিই শরয়ি নিয়ম।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে এবং তাঁর মা অথবা খালাকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি আনাস (রা.)-কে নিজের ডান পাশে দাঁড় করান এবং নারীকে তাঁদের পেছনে দাঁড় করান। (সহিহ মুসলিম)
তবে স্বামী-স্ত্রী যদি জামাতে একে অপরকে অনুসরণ না করে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করেন, তাহলে পাশাপাশি দাঁড়াতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তখন স্ত্রী স্বামীর মুক্তাদি নন।
ঘরে স্বামী, স্ত্রী ও নাবালেগ ছেলে একসঙ্গে জামাত করলে স্বামী সামনে ইমাম হিসেবে দাঁড়াবেন। নাবালেগ ছেলে ইমামের ডান পাশে এবং স্ত্রী তাঁদের পেছনে দাঁড়াবেন।
এদিকে, কোনো পুরুষের জন্য মসজিদের জামাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলে শুধু স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিয়মিত ঘরে জামাত করা উচিত নয়। মসজিদের জামাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে শরয়ি ওজরের কারণে মসজিদের জামাত ছুটে গেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে জামাত করা যেতে পারে।
সুতরাং, নামাজের নিয়ম সঠিকভাবে জানা এবং তা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাযথ নিয়মে নামাজ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।
সময়ের আলো/এসএকে