আমাদের সমাজে বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি একটি উদ্বেগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কর্মক্ষম ও সুঠাম দেহের অধিকারী অনেকে এখন অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে স্বেচ্ছায় এই পথ বেছে নিচ্ছেন। অথচ পরিশ্রমের চেয়ে সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের এই মানসিকতা কেবল আমাদের সামাজিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকেও করছে প্রশ্নবিদ্ধ। ভিক্ষাবৃত্তির এই আগ্রাসী বিস্তার রোধে সচেতনতার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি একটি ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক পেশা, যা মানুষের আত্মসম্মানবোধকে ধূলিসাৎ করে দেয়। কেননা ভিক্ষুকের হাত নিচে থাকে। আর নিচের হাত সর্বদা নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) একদা মিম্বরের ওপর থাকা অবস্থায় সদকা করা ও ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে বয়ান করতে গিয়ে বলেন, ওপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম। ওপরের হাত দাতার, আর নিচের হাত হলো ভিক্ষুকের।’ (বুখারি : ১৪২৯)
কোনো ব্যক্তি যদি প্রয়োজন ছাড়া অভ্যাসগতভাবে মানুষের কাছে হাত পাতে, পরকালে সে এমনভাবে উঠবে যে, তার মুখে কোনো গোশত থাকবে না। মূলত তার অপমান হিসেবে তা হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি অনবরত লোকের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে থাকবে। পরিণামে কেয়ামতের দিন যখন সে উপস্থিত হবে তার মুখমণ্ডলে গোশতের কোনো টুকরা থাকবে না’ (মুসলিম : ১০৩)।
তার চেয়ে আরও জঘন্য হলো, যে ভিক্ষুক সে কেবল ভিক্ষা নয়, বরং আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে। তাই যদি কেউ অপারগ অবস্থায় ভিক্ষা করে তা হলে তার উচিত হবে যথাসম্ভব কম করে ভিক্ষা করা।
হাদিসের ভাষ্যমতে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অভাবের তাড়না ছাড়া নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে বেড়ায় মূলত সে আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে। কাজেই তার ভেবে দেখা উচিত সে বেশি নেবে না কম নেবে।’ (মুসলিম : ১০৫)
ভিক্ষা করার চেয়ে স্বশ্রমে উপার্জন করে জীবিকা অর্জন করা অনেক শ্রেয়। আমাদের প্রিয়নবী (সা.) ভিক্ষা করার চেয়ে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করে জীবনযাপন করা অধিক উত্তম বলে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসের বর্ণনানুযায়ী, হজরত জুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কারও এক বোঝা কাঠ সংগ্রহ করে তা নিজ পিঠে বহন করে আনা এবং বিক্রি করা ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম।
সে কারও কাছে ভিক্ষা চাইবে আর লোকে হয়তো তাকে কিছু দেবে অথবা দেবে না’ (বুখারি : ১৪৭১)। তারা যদি ভিক্ষাবৃত্তির শাস্তি সম্পর্কে অবগত হতো তা হলে এ নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত থেকে পরিশ্রম করে উপার্জন করত।
হাদিসের বর্ণনামতে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ভিক্ষুক যদি ভিক্ষায় কী শাস্তি আছে জানত, তা হলে সে ভিক্ষা করত না।’ (তাবারানি : ১২৬১৬)
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও