চান্দিনায় ৯ বছরেও হয়নি বিদ্যালয়, শতাধিক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর, ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর এই তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সরকারি প্রাথমিক

2026-07-01T14:47:25+00:00
2026-07-01T16:52:00+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
চান্দিনায় ৯ বছরেও হয়নি বিদ্যালয়, শতাধিক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম  আপডেট: ০১.০৭.২০২৬ ৪:৫২ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দানকৃত জমি। ছবি : সময়ের আলো
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর, ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর এই তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে জমি দানও করেছিলেন। কিন্তু জমি দানের প্রায় ৯ বছর পার হলেও এখনো বিদ্যালয় নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে তিন গ্রামের শতাধিক শিশু এখনও কয়েক কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার দেশের বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর, ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামকে বিদ্যালয়বিহীন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসেন।

২০১৭ সালের ২৪ জুলাই জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, সুলতান আহমেদ, দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি স্থানীয় একটি সড়কের পাশে প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দান করেন। বিদ্যালয় স্থাপনের আশায় এলাকাবাসী জমির সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সম্পন্ন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।


এদিকে বিদ্যালয় না থাকায় তিন গ্রামের শিশুদের প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কাঁচা ও দুর্গম গ্রামীণ পথ পেরিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, বর্ষার কাদা কিংবা ঝড়-বৃষ্টি কোনো প্রতিকূলতাই তাদের থামাতে পারে না। তবে দুর্ভোগের কারণে অনেক শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, ছোট শিশুদের এত দূর হেঁটে বিদ্যালয়ে পাঠানো অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গেলে শিশুদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে অনেক সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে এবং ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা জমি দান করেছি। তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের ফসলি জমি থেকে মাটি এনে বিদ্যালয়ের জন্য স্থানটি ভরাট করেন। ভেবেছিলাম আমাদের এলাকার সন্তানরা নিজ গ্রামেই লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু ৯ বছরেও বিদ্যালয় নির্মাণ না হওয়ায় আমরা হতাশ।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই জয়দেবপুর গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে পার্শ্ববর্তী ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সন্তানরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। দ্রুত বিদ্যালয় নির্মাণ না হলে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা আরও পিছিয়ে পড়বে।

শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের অভাবে তিন গ্রামের শিশুরা মৌলিক শিক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে সরকারের ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে জয়দেবপুর এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হোক, যাতে তিন গ্রামের শিশুরা নিরাপদ ও সহজ পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ পায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশন আরা জানান, সারা দেশে প্রথমে ১৫শ বিদ্যালয় ও পরে ১ হাজার বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। ২০১৮ সালে ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর তালিকায় চাওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৮ মে আমাদের অফিস থেকে তালিকা পাঠানো হয়। আমি যোগদানের পর চলতি বছরের ৩১ মার্চ আবারও সেই তালিকা পাঠাই।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   চান্দিনায়  জমি দান  বিদ্যালয়  শিশু  শিক্ষা বঞ্চিত 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: