৪ বছরে বাসা ভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি আবাসনের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।

2026-08-24T23:23:08+00:00
2026-08-24T23:23:08+00:00
 
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
৪ বছরে বাসা ভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম 
অভিযুক্ত প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি আবাসনের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর ১০ মাস সরকারি কোয়ার্টারে থাকলেও করেননি ভাড়া পরিশোধ। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চিলমারী উপজেলায় টানা দুই বছরের অধিক সময়ে সরকারি কোয়ার্টারে ভাড়া বাসায় থেকে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা পরিশোধ না করেই অন্য উপজেলায় দিব্যি চাকরি করে যাচ্ছেন এক উপজেলা প্রকৌশলী। শুধু তাই নয়, নতুন জায়গায় নতুন সরকারি কোয়ার্টারে অবস্থান করার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানেও ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক পত্রে তার বিরুদ্ধে সরকারি দাবি আদায় আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন। কারণ অভিযুক্ত ঐ প্রকৌশলী দীর্ঘ ২ বছর ৪ মাস জেলা পরিষদের কোয়ার্টারে থেকেও ভাড়া পরিশোধ করেননি। ভাড়া না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান চিলমারীতে ভাড়া বকেয়া রেখে বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (অ:দা:) হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে, চিলমারী উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি উপজেলা পরিষদের ঘাঘট-০১ কোয়ার্টারে অক্টোবর ২০২২ সাল থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২ বছর ৪ মাসের ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যান।

অফিস থেকে বারংবার তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও বকেয়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে এই পত্র প্রেরণ করা হয়। গত ২৬ জুলাই প্রেরণকৃত চিঠিতে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা প্রদান করা না হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। এরপরও সাড়া মেলেনি এ প্রকৌশলীর। 


অভিযোগ উঠেছে, এই কর্মকর্তাকে একই পদ্ধতিতে গত ১ মার্চ ২০২৫ তারিখ থেকে এলজিইডি কুড়িগ্রাম কমপ্লেক্সে অফিসার্স কোয়ার্টার ৩টি শর্তে ভাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে সরকারি নিয়মানুযায়ী মোতাবেক প্রতি মাসের বাসাভাড়া পরিশোধ করতে হবে, প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে, বাসায় অবস্থানকালে সরকারি সম্পদের কোনো কিছু ক্ষতি সাধিত হলে বা খোয়া গেলে নিজ দায়িত্বে উহা পূরণ করতে হবে। 

কিন্তু নতুন আবাসনে এখন পর্যন্ত দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। এখানেও ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। এ নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে কুড়িগ্রাম এলজি ইডি বিভাগে। 

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আণিত অভিযোগ স্বীকার করে জানান, আমি চিলমারীতে অবস্থানকালীণ সময়ে সেখানে আরেক অফিসার ছিলেন, তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় ভাড়া সময়মতো পরিশোধ করতে বিলম্ব হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি চিলমারী উপজেলা পরিষদকে জানিয়েছি আমার কাছে এসে টাকা নিয়ে যেতে। তারা না এসে চিঠি ইস্যু করেছে। এটা অসম্মান জনক ঘটনা।

অপরদিকে কুড়িগ্রাম এলজিইডি কোয়ার্টারে ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে তিনি জানান, যেহেতু আমি এখানে এখনো অবস্থান করছি, তাই যে কোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। আমি তো চলে যাচ্ছি না। যে কোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করবো। এটা বড় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি নয়।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, ভাড়া বকেয়া রাখায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আমি মিটিংয়ে আছি তাই বিস্তারিত জানাতে পারছি না। ভাড়া না পেলে সরকারি বিধিবিধান মোতাবেক আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের রাজস্ব তসরুপের সুযোগ নেই। 

ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। ভাড়া বকেয়া আছে কিনা আমার জানা নেই। বকেয়া থাকলে তা আদায় করা হবে। 

এলজিইডির একাউন্টস বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বকেয়া ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল মিলে বকেয়া ৭৫ হাজার টাকা। 

এই অফিসারের এক স্টেশনে (চিলমারী উপজেলায়) ২ বছর ৪ মাস এবং অপর স্টেশনে (কুড়িগ্রাম সদর) দেড় বছরসহ মোট ৩ বছর ১০ মাস ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে হতবাক সবাই। 

সময়ের আলো/এনএন/আতা


  বিষয়:   বাসা ভাড়া  বকেয়া  লাপাত্তা  উপজেলা প্রকৌশলী  সময়ের আলো  কুড়িগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: