প্রতিবন্ধী না হয়েও সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিরা। কারও নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হলেও তিনি জানেনই না, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতা উত্তোলন করছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভাতা প্রত্যাশীদের বঞ্চিত করে অবিবাহিত নারীর নামে বিধবা ভাতা প্রদানের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ভাতা কার্যক্রমে তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও নগদ টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও টাকা দেওয়ার পরও কোনো ভাতা বা কার্ড পাননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাদের নামেই সরকারি ভাতা চালু রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের নামে চালু হওয়া ভাতার টাকা কারা উত্তোলন করেছেন তা এখনও সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে অন্যরা কীভাবে সরকারি ভাতার টাকা পেলেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সম্প্রতি দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় এবং অবিবাহিত নারীদের বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউ ভাতা গ্রহণ না করলেও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা চালু থাকার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু রায়গঞ্জ ইউনিয়ন নয়, নাগেশ্বরী উপজেলার অন্য ইউনিয়নেও প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে কথা বলে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম ও আব্দুস ছামাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হাসনাবাদ ইউনিয়নের আনিসুর রহমানসহ কয়েকজন অর্থের বিনিময়ে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি এসব অনিয়মের সময় নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে জামাল হোসেন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে ভাতা কার্যক্রমের তালিকা, যাচাই-বাছাই, প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান এবং ভাতার অর্থ উত্তোলনের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে