পঞ্চগড়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর আটকে রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আবু রায়হান হৃদয় (২৪) ও মোছা. সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)। রোববার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে ওসি বলেন, গ্রেফতার করা হানিট্র্যাপের দুই সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৭ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানা এলাকার এক ব্যবসায়ী এই হানিট্র্যাপ চক্রের ফাঁদে পড়েন। ওইদিন দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের গেট থেকে চক্রের ৪-৫ জন সদস্য তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী গত মাসে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আবু রায়হান হৃদয় ও সুরাইয়া পারভীন স্বরনীকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু রায়হান হৃদয়ের স্থায়ী বাড়ি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় হলেও তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজনগর (খালপাড়া) এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। অপর আসামি সুরাইয়া পারভীন স্বরনী পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আসামিদের পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে