চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের খুনের পেছনে বালি মাফিয়ারা জড়িত বলে দাবি করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হুমাম কাদের চৌধুরী। বুধবার (১ জুলাই) বিকালে নিহত মাসুদের বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দাবি জানান এবং হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের দ্রুত গ্রেফতারের তাগিদ দেন। একই কথা জানিয়ে ইতিপূর্বে তিনি সংসদেও বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জনপ্রিয় নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবৈধ বালি সিন্ডিকেট বা বালি মাফিয়ারা সরাসরি জড়িত। বালি মহলের অবৈধ ব্যবসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খুনের পেছনে যারা অর্থায়ন করেছে এবং যারা মূল পরিকল্পনাকারী বা 'মাস্টারমাইন্ড', তাদের যেকোনো মূল্যে খুঁজে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে প্রশাসন চিরুনি অভিযান চালাবে, কিন্তু বালি মাফিয়াদের কোনো রেহাই নেই।
বুধবার বিকালে তিনি নিহত মাসুদের বাসভবনে যান। এসময় তাঁর সাথে স্ত্রী সামাঞ্জার খানও উপস্থিত ছিলেন। হুমাম কাদের চৌধুরী মাসুদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। তিনি মাসুদের চার বছরের একমাত্র অবুজ কন্যা সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন এবং মাসুদের স্ত্রীর সাথে কথা বলে যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন। পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি নিহত যুবদল নেতার কবর জিয়ারত ও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পুরো জনপদে নেমে আসা চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তিনি ইতিপূর্বেই মহান জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তদন্তের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তা সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এলাকার বর্তমান থমথমে পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের ভয়ভীতি দূর করতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এখানে র্যাবের একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা এবং ছড়ানো হুমকির বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজানের চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মাসুদকে। জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ জনতা রাউজানের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ার সমস্ত প্রধান সড়ক অবরোধ করে পুরো জনপদ একপ্রকার অচল করে দেয়। এর আগে গত ২০ জুন রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও মাসুদের বেতাগীর বাড়িতে এসে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত করেছিলেন।
মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে। সম্প্রতি র্যাব-৭ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি আইয়ুবকে (রাউজান কদলপুরের আবদুল মোনাফের ছেলে) গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নিহতের মানিব্যাগ চুরি করা ব্যক্তিসহ আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো অধরা। প্রশাসন পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
সময়ের আলো/আতা