কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। উপজেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন রোগী ভ্যাকসিন নিচ্ছে। ফলে জলাতঙ্ক রোগের আতঙ্ক নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে। বিশেষ করে পোষা প্রাণীর আক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সরবরাহ না।
থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় তিনগুণ বেড়েছে কুকুর-বিড়াল দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে পোষা কুকুর ও বিড়ালের মাধ্যমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু কিশোর কিশোরীরা। এতে করে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন সংকট। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
শিশুকে ভ্যাকসিন দিতে আসা সিদ্দিক হোসেন বলেন, হঠাৎ বিড়ালে আঁচড় দেয়। পরে সন্তানকে ভ্যাকসিন দিতে নিয়ে আসি। তিনটি টিকা দিতে হবে। গত তিন মাসে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছে প্রায় ৯৫০ জন।
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, গত জুন মাসে বিড়াল দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৭৫ জন। কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছে ২৯ জন। এবং শিয়াল দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোষা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম বলেন, গত তিন মাসে ২৩০ ভাইল ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে, সরকারি ভাবে পেয়েছি ১০০ ভায়াল ভ্যাকসিন। উপজেলা পরিষদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসসহ অন্যান্যভাবে ১৩০ ভায়াল ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যা সত্যি দুশ্চিন্তার কারণ। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। কুকুর-বিড়ালসহ বন্যপ্রাণী থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও পোষা প্রাণীদের নিয়মিত ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/আতা