চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরান যখন গোলপোস্টে বল জড়াল, গ্যালারি কিংবা টেলিভিশন স্ক্রিনের সামনে থাকা লাখো দর্শকের মতো সমান উন্মাদনায় মেতে উঠল দৃষ্টিহীন কিশোর আলিরেজা। সে চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু তার বাবা নিজের হাতের ছোঁয়ায় ছেলের মনের আঙিনায় ফুটিয়ে তুললেন সেই গোলের রোমাঞ্চ। হাতে তৈরি একটি কার্ডবোর্ডের ফুটবল মাঠের ওপর ছেলের হাত জোড়া ধরে প্রতিটি পাস, ট্যাকল আর ড্রিবলিংয়ের নিখুঁত ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা। আর ইরান গোল করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সেই কিশোর। অন্ধত্বকে জয় করে বাবার ভালোবাসার এমন এক অনন্য দৃশ্য স্পর্শ করেছে বিশ্ববাসীর হৃদয়। এই আবেগঘন মুহূর্তের খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দি ইকোনমিক টাইমস।
কার্ডবোর্ডের মাঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ইরানের করা গোলগুলো ছেলের হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাবার এই পুনর্নির্মাণের ভিডিও ক্লিপগুলো ইনস্টাগ্রামে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। লাখ লাখ লাইক আর মন্তব্যে ভেসে যাওয়া এই ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের হাইলাইট নয়, বরং সন্তানের প্রতি বাবার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার এক জীবন্ত দলিল। খেলাধুলা যে মানুষের পারস্পরিক বন্ধনকে মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
আলিরেজার কাছে ফুটবল মানে কেবলই স্পর্শ আর গ্যালারির শব্দ। আর তার বাবা এটি নিশ্চিত করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার ছেলে যেন কোনো আনন্দ থেকেই বঞ্চিত না হয়। কার্ডবোর্ডের তৈরি সেই সাধারণ বোর্ডটি আসলে ধৈর্য, গভীর চিন্তা এবং প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙে ফেলার এক প্রতীক। শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এভাবে অভিজ্ঞতাগুলোকে সহজলভ্য করে তোলা তাদের আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে।
খেলাধুলা সবসময়ই সমাজ ও জাতিকে একত্রিত করে। এই অভিনব ভাবনার মাধ্যমে বাবা তার দৃষ্টিহীন ছেলেকে ইরানের জাতীয় উৎসব ও উন্মাদনার অংশ করে তুলেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে হৃদয়বিদারক বিদায় নিতে হয়েছে, তবে আলিরেজা তার দেশের এই ঐতিহাসিক ফুটবল যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তের ভাগীদার হতে পেরেছিল।
সময়ের আলো/কহু