গ্ল্যামার অঙ্গন থেকে রাজনীতিতে আসার ঘটনা নতুন নয়। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজনীতিতে এবার দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা নতুন জাতীয় সংসদ বা ‘পিপলস অ্যাসেম্বলি’র সদস্য হিসেবে সরাসরি মনোনীত করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা লাজকানিকে।
সিরিয়ার নির্বাচন সংক্রান্ত উচ্চতর কমিটি নতুন সংসদের চূড়ান্ত সদস্য তালিকা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে।
সিরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হাতে সরাসরি ৭০ জন সংসদ সদস্য মনোনীত করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। দামেস্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহা আল-আহমদ জানান, সংসদীয় কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনতে এবং বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই ৭০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। সেই বিশেষ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী অভিনেত্রী রোজিনা লাজকানিও।
নারীর ক্ষমতায়নকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই প্রেসিডেন্ট মনোনীত ৭০ জন সদস্যের মধ্যে রোজিনাসহ মোট ১৫ জন নারীকে (২১.৪ শতাংশ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিনোদন অঙ্গনে রোজিনা লাজকানি অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। সিরিয়ার হামা শহরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী থিয়েটার বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি হায়ার ইনস্টিটিউট অফ ড্রামাটিক আর্টস থেকে ‘সিনোগ্রাফি’ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ২০১৩ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন।
এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিরিয়ান ও আরব নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ব্লকবাস্টার এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত থ্রিলার সিরিজ ‘আল-হায়বা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
এতদিন ক্যামেরার সামনে অভিনয়েই ব্যস্ত থাকা রোজিনা লাজকানি এখন দেশের আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিনোদন জগতের জনপ্রিয় এই মুখকে সংসদে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা তরুণ প্রজন্ম এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
তবে গ্ল্যামার অঙ্গন থেকে সিরিয়ার জাতীয় সংসদে রোজিনা লাজকানির এই নতুন অধ্যায় কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ